সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে ৫৮৭ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাবে ক্ষোভ

২০২১-২২ অর্থবছরের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ৫৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ প্রস্তাব দেন।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ছিল ৫৭৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটে তা দাঁড়িয়েছে ৫২২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকে এবার ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেটে সংস্কৃতির জন্য বরাদ্দ ৫৮৭ কোটি টাকা, যা মূল বাজেটের ০.০৯৮ শতাংশ। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৩৬৭ এবং উন্নয়ন ব্যয় ২২০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

এদিকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে রাখা সাংস্কৃতিক জাগরণের ক্ষেত্রে অপ্রতুল বলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হতাশা ও ক্ষোভের কথা জানিয়েছে সংস্কৃতি অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংস্কৃতি খাতকে গুরুত্ব না দিয়ে আমরা যে মানবিক রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখি, সেটা সম্ভব নয়। এবারও সংস্কৃতি খাতের বাজেট আমাদের হতাশ করেছে। আমরা আশা করেছিলাম, মূল বাজেটের অন্তত ১ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে সংস্কৃতি খাতে। সেটা করা হয়নি। এটা ভীষণ মর্মাহত হওয়ার মতো।’

সংস্কৃতি খাতকে অবহেলা করে মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিরা সংস্কৃতি খাতকে কেমন অবহেলার চোখে দেখে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে বাজেটের মধ্য দিয়ে। আমাদের রাষ্ট্রীয় কর্তারা মুখে বলেন সংস্কৃতির কথা। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখি না। সংস্কৃতিবান্ধব সরকার বলে যাচ্ছি, কিন্তু রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে সংস্কৃতিকে অবহেলা আমাদের মর্মাহত করে।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘সংস্কৃতি খাতের বাজেট আমাদের মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ করেছে। আমরা এটা প্রত্যাশা করিনি। আমরা বলে আসছি, অন্তত মূল বাজেটে ১ শতাংশ যেন বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সরকার বরাবরই সংস্কৃতি খাতকে অবহেলার চোখে দেখে আসছে। এটা খুবই হতাশার ও দুঃখজনক।’