নেতা বদলালেও নীতি একই

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেন প্রথম। ওই স্বীকৃতির পর সম্প্রতি ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনে বেনজামিন নেতানিয়াহুর দল জয় পায়নি। জোট গঠন করে বিরোধীরা সরকার গঠনের দিকে এগোলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম আসে নাফতালি বেনেটের। বলা হচ্ছে, তিনি নেতানিয়াহুর এক সময়কার শিষ্য ছিলেন এবং তিনি গুরুর চেয়েও বেশি উগ্র।

কিন্তু বেনেট যাই হোক বা করুন, তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিরা। এক জাতীয়তাবাদী নেতার স্থলে আরেক জাতীয়তাবাদী আসায় ফিলিস্তিন পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হবে না বলেও মনে করছে তারা। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন করা সংগঠনের সাবেক প্রধান বেনেটকে উগ্র জাতীয়তাবাদী হিসেবে দেখছে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

সরকার গঠনের লক্ষ্যে গত বুধবার ইসরায়েলের ডান, বাম ও মধ্যপন্থি দলগুলো যে জোট করেছে তাতে কট্টর ডানপন্থি এ রাজনীতিকই ১২ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকা নেতানিয়াহুর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। এ দুই নেতার মধ্যে নানান বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দুজনই গত মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জন্য হামাসকেই দায়ী বলে মনে করেন। এমনকি বৃহস্পতিবারও নিজের অবস্থান লুকোননি বেনেট। ফলে বেনেট ক্ষমতায় বসলে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নীতিতে কিছু পরিবর্তন এলেও, ফিলিস্তিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে বেনেট বলেন, ‘সত্যিটা বলতেই হবে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের এ বিবাদ মোটেও জায়গা নিয়ে নয়। ফিলিস্তিনিরা এখানে আমাদের অস্তিত্বই স্বীকার করে না। আরও কিছুদিন এরকম পরিস্থিতি চলবে বলে মনে হয় আমার।’ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে অবস্থানই বেনেটকে ‘চিনিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট’ বলে মত ফিলিস্তিনি বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তাদের। ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) প্রতিনিধি বাসেম আল-সালহি বলেন, ‘নেতানিয়াহুর চেয়ে মনোনীত প্রধানমন্ত্রীও কম উগ্রবাদী নন।’ ইসরায়েলি নেতাদের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য হয় না বলেও তারা বিশ্বাস করে।

এমনকি হামাসও বলছে, কে ইসরায়েল শাসন করছে, তাতে খুব একটা পার্থক্য দেখা যায় না। সংগঠনটির মুখপাত্র হাজেম কামেশ বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরা ডান, বাম, মধ্যপন্থি নামে পরিচিত কয়েক ডজন ইসরায়েলি সরকার দেখেছে। কিন্তু যখনই ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রশ্ন এসেছে, তখন তারা সবাই বৈরী আচরণ করেছে। তাদের সবারই সম্প্রসারণের বৈরী নীতি ছিল।’ এবার যে জোট সরকার ইসরায়েলের শাসনভার নিতে যাচ্ছে, তাতে প্রথমবারের মতো একটি ইসলামিক দলও থাকছে, যারা দেশটির ২১ শতাংশ আরব সংখ্যালঘুর ভোটে পার্লামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে।