নোয়াখালীতে প্রতিদিনই বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। গত এপ্রিল থেকে জুন ৫ জুন পর্যন্ত ডায়রিয়ায় মারা গেছে শিশুসহ ৯ জন। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ। এদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যা বেশি।
রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকেরা। রয়েছে ওষুধ ও স্যালাইনের সংকটও।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর চাপ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ওষুধের কিছুটা সংকট হচ্ছে, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী নয়।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রয়েছে মাত্র ২৩টি বেড। কিন্তু প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছেন ৩৫-৪০ জন রোগী। হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ভেতরে ও বাইরের মেঝেতে আশ্রয় নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বেশির ভাগ রোগী। তার মধ্যে হাসপাতালে ওষুধ সংকট থাকায় বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন রোগীর স্বজনরা।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডের তথ্যমতে, এ বছরের এপ্রিল মাসে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৮৮০জন রোগী, যার মধ্যে মারা গিয়েছিল ৩ শিশুসহ মোট ৪ জন। মে মাসে ভর্তি হয়েছেন ১২২০ জন রোগী। এপ্রিলে ৪ জন ও মে মাসে মৃত্যু হয় ৩ জনের। চলতি মাসের ৫ জুন (শনিবার) পর্যন্ত রোগী ভর্তির সংখ্যা ৯০ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুজনের। এ নিয়ে মোট মারা যায় ৯ জন। ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে জেলার সুবর্ণচরসহ চরাঞ্চলের রোগী বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসাসেবায় কর্মরতরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২০টি বেডের বিপরীতে কাজ করছেন ৬ জন নার্স, দুইজন ওয়ার্ডবয় ও একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী।
প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুইজন নার্স, ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দুইজন ও রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত ওয়ার্ডে কাজ করেন দুইজন নার্স।
তাদের সহযোগিতার জন্য সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত একজন ও দুপুর ২টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত কাজ করেন একজন ওয়ার্ডবয়। রোগীর চাপ অনুযায়ী যা অপ্রতুল।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরজব্বার গ্রামের বাসিন্দা আমেনা খাতুন বলেন, ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়ায় গত ১৭ মে তার মেয়ের দুই যমজ শিশু সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এর মধ্যে স্যালাইনসহ কিছুসংখ্যক ওষুধ হাসপাতাল থেকে দিলেও বেশির ভাগ ওষুধ তারা বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে এনেছেন।
সদর উপজেলার খালিফারহাট এলাকা থেকে আসা এক শিশুর বাবা মো. জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভর্তির গত দুইদিনে স্যালাইন ছাড়া আর কিছুই দেননি নার্সরা। এতজন রোগীর দেখাশোনা করেন মাত্র দুইজন নার্স।
এ ওয়ার্ডে জরুরি ভিত্তিতে বেড, চিকিৎসক ও নার্স না বাড়ালে রোগীরা বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র নার্স আনোয়ারা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এপ্রিল ও মে মাসে ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। তবে গত মাসের তুলনায় এ মাসে রোগীর সংখ্যা অনেকটাই বেশি।
তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে অর্ধশতাধিকের বেশি ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। অতিরিক্ত রোগী ভর্তির কারণে মাঝে কিছু ওষুধের সংকট দেখা দেয়।
গত ৪-৫ মাস ধরে হাসপাতালে মেট্রো ইনজেকশনের সংকট রয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে জনবল বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
জনবল ও ওষুধের সংকটের কথা স্বীকার করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সৈয়দ মো. মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, আমাদের বেড আছে ২৩ জন রোগীর সে ক্ষেত্রে রোগী ভর্তি প্রতিদিন প্রায় ৭০- থেকে ৮০ জন। এটা দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে বছরের এ সময়টাতে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেশি থাকে। জনবল ও ওষুধের কিছুটা সংকট থাকার কারণে দায়িত্বরতদের বেগ পেতে হচ্ছে।