বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কি গো-চারণ ভূমি!

করোনা মহামারির বন্ধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাস যেন এখন গরু-ছাগলের দখলে। গো-চারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে শিক্ষার্থীশূন্য ক্যাম্পাসের মাঠ। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের মাঠ, আশপাশের রাস্তাঘাট এমনকি একাডেমিক ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরেও এসব গরু-ছাগল অবাধে ঘুরে বেড়ায়।

এ ছাড়া ক্যাম্পাস খোলা থাকলেও এমন গরু-ছাগলের উপদ্রব প্রায়ই দেখা যায়। গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ বন্ধ চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষের অবাধে ঢোকার সুযোগ থাকায় ক্যাম্পাসের মাঠ তারা ব্যবহার করছে গো-চারণ ভূমি হিসেবে। মাঠের চারপাশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়নে লাগানো চারাগাছ ও গাছপালা খেয়ে নষ্ট করছে ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশ। শুধু তাই নয়, মাঠে গবাদিপশুর মলমূত্র যেমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করছে। তেমনি রাস্তায় এসব গবাদিপশুর বিষ্ঠা যাতায়াতের সমস্যার সৃষ্টি করে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক দশক পার হলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা বেষ্টনীর কাজ শেষ না হওয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে এসব গরু ছাগল ঢুকিয়ে ক্যাম্পাসকে গো-চারণ ভূমি বানিয়েছে স্থানীয়রা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী ও মালি থাকলেও তাদের সামনেই গরুর পাল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। 

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ (ছাত্র ইউনিট) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আল আমিন জানান, মুজিব শতবর্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের (ছাত্র ইউনিট) পক্ষ থেকে ক্যাফেটেরিয়া থেকে মেইন গেট পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের চারা রোপণ করেছিলাম। কিন্তু ক্যাম্পাসে হরহামেশাই গবাদিপশু প্রবেশ ও কর্তৃপক্ষের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কিছুদিন পরে চারাগুলো নষ্ট হয়ে যায়।  

ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মোক্তাদিউর রিজভী বলেন, পৃথিবীব্যাপী যেখানে গাছ লাগানো ও সংরক্ষণের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সেখানে ববির ক্যাম্পাস গাছের গুরুত্ব নেই বললেই চলে। ক্যাম্পাসের অধিকাংশ গাছই শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে লাগানো। বারবার অভিযোগ দেওয়ার পরও আগাছা দমন করতে গিয়ে গাছে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এখন ফাঁকা ক্যাম্পাসটা গরু-ছাগলের অবাধ ভূমিতে পরিণত হয়েছে, এসবের জন্য গাছের প্রতি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা দায়ী।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১’র চেতনা এর সভাপতি এনামুল হক বলেন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন অনেক গাছ রোপণ করছে। আজকেও (শনিবার) আমরা ৫০টি চারা গাছ রোপণ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে থেকে আসা গরু-ছাগল এসব গাছপালা খেয়ে ফেলছে। যা খুবই দুঃখজনক এবং মর্মান্তিক বিষয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মহিউদ্দীন  সাব্বির জানান, ক্যাম্পাসে গরু-ছাগল প্রবেশ নিয়ে আমরাও বিরক্ত। রাস্তাঘাটে বিষ্ঠা হাঁটার সময় অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি করে। নিরাপত্তা প্রহরীদের অনেকবার বলা হয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে গাছাড়া ভাব দেখা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষরোপণ কমিটির আহ্বায়ক ও প্রক্টর সুব্রত কুমার দাস জানান,

ক্যাম্পাস এখনো খোলা, গেট নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট শাখা এটা দেখো ভালো করে। করোনার প্রথম দিকে স্পেসিফিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তখন নিয়ন্ত্রণে ছিল। ইদানীং দেখছি গরু-ছাগল প্রবেশ বেড়ে গেছে।  আমরা শিগগিরই ব্যবস্থা নেব। কোথায় ঘাটতি আছে, কেন ক্যাম্পাসে এত গরু-ছাগল বেড়ে গেছে, কীভাবে এটা ঘটছে সেটা খতিয়ে দেখা হবে।

ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশের ব্যাপারে তিনি বলেন,  সন্ধ্যার পরেও রাত ১০টা পর্যন্ত আমরা ডিউটি করি। রাতে ক্যাম্পাসে সন্দেহভাজন কারো কাছে আইডি কার্ড দেখতে চাইলেও তারা অস্বীকৃত জানায়। হয়তো তারা আমাদের চেনে না। বহিরাগত প্রবেশ রুখতে শিক্ষার্থীদেরও সহযোগিতা করতে হবে।