বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়ে মিলানের সাবেক তরুণ ফুটবলারের আত্মহত্যা

বছরের পর বছর ধরে বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন এসি মিলানের যুব দলের সাবেক ফুটবলার সিড ভিসিন।

সিরি’আর দুই ক্লাব মিলান ও বেনেভেন্তোর যুব একাডেমিতে ছিলেন ভিসিন। সম্প্রতি ইতালির কাম্পানিয়ায় নিজের বাড়িতে এই ২০ বছর বয়সী ফুটবলারের মৃতদেহ পাওয়া যায়।

ভিসিনের জন্ম ইথিওপিয়ায়। পরে শিশুকালে সন্তান হিসেবে তাকে দত্তক নেন ইতালিয়ান দম্পতি ওয়াল্টার ও মাদ্দালেনা। ভিসিনের নতুন ঠিকানা হয় ইতালির শহর নোসেরা ইনফেরিওরে। যেখানে তিনি বেড়ে ওঠেন ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে।

তবে ২০১৬ সালে ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দেন ভিসিন। অ্যাটলেটিকো ভিটালিকার হয়ে কেবল ফাইভ-এ-সাইড ফুটবল খেলতেন তিনি।

ক্লাবটিই ভিসিনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর জানায়। এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বছরের পর বছর ক্রমাগত বর্ণবাদীতার শিকার হয়ে নোসেরায় নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন তিনি।

ইতালিয়ান গণমাধ্যম কোরেইরা আরও জানায়, মৃত্যুর আগে এক হৃদয়বিদারক চিঠিও লেখেন ভিসিন। শনিবার তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তা পাঠ করা হয়।

সেই চিঠিতে ভিসিন লিখেছেন, ‘এখন, যেখানে আমি যাই, যেখানে থাকি না কেন, কেউ যেন আমার কাঁধে পাথর রেখেছে, এমন অনুভব করি। লোকজনের অবিশ্বাসী, কুসংস্কারগ্রস্ত, ঘৃণিত ও ভয়মিশ্রিত তাকানো আমার কাছে খুব ভারী ঠেকে।’

ভিসিন চিঠিতে আরও লেখেন, ইতালিতে অভিবাসী হিসেবে আসার ফলে তার প্রতি বর্ণবৈষম্য দিনদিন বাড়ছিল। এমনকি তিনি যখন ওয়েইটার হিসেবে এক রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন, তখন এক বয়স্ক সাদা চামড়ার মহিলা তার সার্ভিস প্রত্যাখ্যান করে বলেও গল্প আকারে চিঠিতে লেখেন।

কিন্তু নিজেকে ইতালিয়ানদের একজন ভাবতেন তিনি। ‘মানুষজনকে প্রমাণ দিতে হতো, আমিও তাদের একজন, আমিও একজন ইতালিয়ান’, ভারাক্রান্ত হৃদয়য়ে চিঠিতে লেখেন ভিসিন।

সেই চিঠিতে এই তরুণ আরও লেখেন, ‘কালো হওয়ায় আমি বিব্রত। যেন অভিবাসী হয়ে আমি কোনো ভুল করেছি এবং তার জন্য ভীত।’

ভিসিনের মৃত্যুর প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রথমে তিনি চিঠিটি লেখেন, যা তার কয়েকজন বন্ধু ও সাইকোথেরাপিস্টকে পাঠান। ২০১৯ সালের লেখা চিঠিটি লেখেন তিনি।’

এই তরুণ ফুটবলারের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। মিলানে তিনি ও ভিসিন রুমমেট ছিলেন। দোন্নারুম্মা এএনএসএ’কে জানান, ‘মিলানে পৌঁছার পর আমার সঙ্গে সিডের সাক্ষাৎ হয়। বোর্ডিং স্কুলে আমরা একসঙ্গে থাকতাম। কয়েক বছর কেটে গেছে, কিন্তু আমি এখনো তার হাসি ভুলিনি। ওটাই আমার জন্য আনন্দের। সে ছিল আমার বন্ধু, আমার মতোই এক বালক।’