দীর্ঘ এক দশক ধরে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পৌরসভার নির্বাচন বন্ধ ছিল সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করা সংক্রান্ত জটিলতায়। রবিবার (৬ জুন) আদালতের নির্দেশে সেই বাধা কাটল।
হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ডিভিশন বেঞ্চে পৌরসভার মেয়র এ জেড এম মেনহাজুল হকের দায়ের করা রিট পিটিশন মামলা খারিজ করে দেয়।
এর ফলে পার্বতীপুর উপজেলার ৩ নম্বর রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নে নির্বাচনের বাধাও দূর হলো। পার্বতীপুর পৌর নির্বাচনে আপাতত কোনো বাধা থাকলো না।
রবিবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ এম আর চৌধুরী ও বিবাদীর পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. এহসান হাবিব। অন্য দিকে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাড. আব্দুল বাতেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালে পার্বতীপুর পৌরসভা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই প্রজ্ঞাপনের ওপর হাইকোর্ট বিভাগ রুল ইস্যু করে এবং সাময়িক স্থগিতাদেশ দেয়।
জানা গেছে, গত ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি মাসে পার্বতীপুর পৌরসভার শেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বর্তমান মেয়র এ জেড এম মেনহাজুল হক মাত্র ১৪ ভোটের ব্যবধানে এমএ ওহাব সরকারকে হারিয়ে নির্বাচিত হন। নিয়মানুযায়ী ৫ বছর পর দেশের অন্যান্য পৌরসভায় নির্বাচন হলেও সীমানা জটিলতায় পার্বতীপুর পৌরসভায় কোনো নির্বাচন হয়নি।
একইভাবে ২০১১ সালের জুন মাসে সারাদেশের সঙ্গে পার্বতীপুরের ১০ ইউনিয়নেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১৬ সালের মে মাসে পার্বতীপুরের ১০ ইউনিয়নের মধ্যে আট ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের দুদিন আগে সীমানা জটিলতায় পৌরসভা সংলগ্ন রামপুর ও পলাশবাড়ী ইউনিয়নের নির্বাচন বন্ধ হয়।
২০১১ সালে পলাশবাড়ী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মোফাক্ষারুল ইসলাম। তিনি অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে রামপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শাহাদত হোসেন শাদো। মামলার কারণে তাকে দায়িত্ব পালন থেকে তাকে বিরত রাখা হয়। ওয়ার্ড মেম্বার একরামুল হককে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি দীর্ঘ ছয় বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।