টঙ্গী নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনায় ছিল কিশোর গ্যাং ‘ডি কোম্পানি’

ভয়ংকর কিশোর গ্যাং ডেয়ারিং কোম্পানি বা ‘ডি কোম্পানির’ প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাজিব চৌধুরী বাপ্পী ওরফে লন্ডন বাপ্পীসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা ও টঙ্গী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন তারা ঢাকার অদূরে টঙ্গী এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল।

 সম্প্রতি টঙ্গীর পূর্ব থানাধীন আরিচপুর এলাকায় দুটি ঘটনায় নৃশংসভাবে হামলা চালায় ‘ডি কোম্পানি’র সদস্যরা। এই গ্যাংয়ের উদ্দেশ্য ছিল হামলা, ভাঙচুর, মারামারি এবং নৃশংস হত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়ে পুরো টঙ্গী নিয়ন্ত্রণ করা।

রবিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, এ গ্যাংয়ের অন্যতম আরেক সদস্য মইন আহমেদ নীরব ওরফে ডন নীরব ও রাজিব আহমেদ নীরব ওরফে টম নীরব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মেসেঞ্জার মাধ্যমে দুই শতাধিক কিশোরকে সক্রিয় রাখত।

গ্রেপ্তাররা হলো মো. তানভীর হোসেন ওরফে ব্যাটারি তানভীর, মো. পারভেজ ওরফে ছোট পারভেজ, মো. তুহিন ওরফে তারকাটা তুহিন, মো. সাইফুর ইসলাম শাওন, মো. রবিউল হাসান, মো. শাকিল ওরফে বাঘা শাকিল, মো. ইয়াসিন আরাফাত ওরফে বিস্কুট ইয়াছিন, মো. মাহফুজুর রহমান ফাহিম, ইয়াছিন মিয়া ওরফে ইয়াছিন।

র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আব্দুর মোত্তাকিম বলেন, গত ১ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ‘ডি কোম্পানি’র সদস্যরা টঙ্গীর আরিচপুর এলাকার ভূইয়া পাড়া জামে মসজিদের সামনে জনৈক মো. তুহিন আহমেদ এবং তুষার আহমেদকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় পরের দিন তুহিন আহমেদ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পর দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই র্যাব তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে।

তিনি বলেন, ধৃতরা মাদক সেবন, স্কুল-কলেজে বুলিং র্যাগিং, ইভটিজিং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও শেয়ারসহ নানা অবৈধ কাজে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে।

র্যাব সূত্র জানায়, এ গ্রুপের প্রধান রাজিব চৌধুরী বাপ্পী এর আগেও অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। এ ছাড়াও একটি অপহরণ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি সে জামিনে বেরিয়ে ফের বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তার ভাই পাপ্পু ওরফে লন্ডন পাপ্পু এক সময় লন্ডনে ছিল। লন্ডন থেকে ফিরে এলাকায় মাদক কারবার, মারামারি, হত্যা চেষ্টা ও বিভিন্ন অপরাধে সে এখন কারাগারে রয়েছে।

র‌্যাব জানায়, ‘ডি কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠিত করে পুরো টঙ্গী নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা ছিল তার। দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটাবে বলে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। এ জন্য পাপ্পুর ভাই বাপ্পী অস্ত্র মজুদ রেখেছে।

‘ডি কোম্পনি’র সঙ্গে আরো দুই শতাধিক কিশোর জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে র‌্যাব।