আরেকজন ‘গোল্ডেন বয়ের’ খোঁজে মতিউর মুন্না

ফুটবলে তখন গোল্ডেন গোলের যুগ। নির্ধারিত সময় অমীমাংসিত থাকলে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে যে দল আগে গোল দিত তারাই পরত বিজয়মাল্য। এরকমই এক স্বর্ণালি গোলে ১৮ বছর আগে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হাজারো দর্শককে বুনো উল্লাসে মাতিয়েছিলেন মতিউর মুন্না। নির্ধারিত সময় ১-১ সমতা। অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরুর পর ৯৮ মিনিটে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে বাম দিক দিয়ে ভারতের প্রান্তে ঢুকেই দূরপাল্লার আচমকা শটে ইতিহাসে পাকাপাকি ঠাঁই করে নিয়েছিলেন মুন্না। বনে গিয়েছিলেন গোল্ডেন বয়। আজ আরেকটি বাংলাদেশ-ভারত লড়াইয়ের আগে সেই মুন্নাই খুঁজে পেতে চাইছেন আরেকজন গোল্ডেন বয়কে।

১৮ বছর আগের সেই জয়টাই ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের পাওয়া শেষ জয়। অকল্পনীয় এক গোলের মালিক তাই জামাল-তপুদের মধ্যে খুঁজে ফিরছেন আরেকজন ভারতজয়ী নায়ক। কাতারে আজ নিজের কীর্তি মøান হয়ে যাক, নতুন ভারতজয়ের গল্প লেখা হোক জামালদের নামে, এমনটাই কায়মনে চাইছেন মুন্না, ‘১৮ বছর আগের সেই রাতের কথা কখনই ভুলতে পারব না। আমার কাছে গোলটা এখনো অবিশ্বাস্য মনে হয়। আসলে ভারতকে সামনে পেলেই কী যেন হয়ে যেত আমাদের। ভারত দক্ষিণ এশিয়ার সেরা দল, এটা ভুল প্রমাণ করার জেদ নিয়ে মাঠ নামতাম। শুধু তো ২০০৩-এর সেই ম্যাচ নয়, ১৯৯৯ সালেও ভারতে হারানো দলের হয়ে খেলেছি। তার আগেও অনেক ম্যাচ খেলেছি ভারতের বিপক্ষে। এই ম্যাচের আগে দলের সবার মধ্যেই অন্যরকম একটা জেদ কাজ করত। এই লড়াইটাকে বলতে পারেন ঢাকার মাঠে আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথের মতো। আশা করছি কাল (পড়ুন আজ) ওরকম জেদি রূপেই দেখতে পারব বর্তমান জাতীয় দলকে।’

খেলা ছেড়েছেন অনেকদিন। খেলাটা ছেড়ে নিজেকে দূরেই রেখেছেন। তবে জাতীয় দলের খেলায় নজর থাকে সবসময়। দু’বছর আগে সল্টলেকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা টিভিতে দেখেছেন। শেষ মুহূর্তের গোলে আফগানদের রুখে দেওয়াও দেখেছেন। এই দলের ব্যবচ্ছেদ করলেন নিজের মতো করে, ‘এই দলটা অনেক ব্যালান্সড মনে হয়েছে আমার কাছে। ৯০ মিনিট একই তালে খেলে যেতে পারে এখনকার ছেলেরা। এটা সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে ওরা বল পেলে একটু তাড়াহুড়ো করছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দেখলাম বল পেলেই বল হোল্ড না করে দ্রুত লং বল ফেলছে। দীর্ঘকায় আফগানদের সঙ্গে সেই বল দখলের লড়াইয়ে হেরে যাওয়াই স্বাভাবিক। শেষ দিকে অবশ্য বল ধরে খেলে আক্রমণে উঠে গোল পেয়েছে।’

এই দলে গোল করা ও করানোর মানুষের অভাব আছে ঠিক। তারপরও মুন্না আস্থা রাখছেন দলটির ওপর। দূর থেকে অনুজদের দিতে চাইছেন সাহস, ‘শুধু আমরা নই, আমাদের অগ্রজরাও ভারতকে সমশক্তির দল হিসেবেই ভাবতেন। তাই তাদের নিবেদনটাও ছিল সে-রকম। এখন যারা লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করছে, তাদের মধ্যে দেশপ্রেমের কোনো ঘাটতি নেই। ভারতকে হারানো সম্ভব এই বিশ্বাসটা যদি ওদের হৃদয়ে বুনে দেওয়া যায়, তখন দেখবেন আর আক্ষেপ থাকবে না। আমি তো চাইব ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটুক কালকের (আজ) ম্যাচে। আরেকটা গোল্ডেন বয় এসে দখল করুক আমার জায়গা। তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। বরং আমিই হয়তো সবচেয়ে বেশি খুশি হব। দেশের জয়ের কাছে ব্যক্তিগত প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি আমার কাছে তুচ্ছ।’

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র তিন ম্যাচে। যাতে গোল ছিল চার তারকার। ১৯৯১ সালে কলম্বো সাফ গেমসে রিজভী করিম রুমির জোড়া গোলে প্রথম জয় ২-১ ব্যবধানে। এরপর ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডু সাফ গেমসের সেমিফাইনালে সুপারসাব সাহাজউদ্দিন টিপুর অসাধারণ গোলে জয়। সর্বশেষ ২০০৩ এর সেই ম্যাচে রোকনুজ্জামান কাঞ্চনের গোলের পর মতিউর মুন্নার স্বর্ণালি গোল। আজ কাতারে এই এলিট তালিকায় নাম লিখাতে পারবেন কেউ?