২০১৮ সহ দুটি বিশ্বকাপ, দুবারের সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। তিনবারের ইউরো চ্যাম্পিয়ন ও ৪ বারের বিশ্বকাপ জয়ী জার্মানি। তাদের সঙ্গে গতবারের চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল। আর আছে হাঙ্গেরি। ইউরো ২০২০-এর ‘এফ’ গ্রুপকে বলা হচ্ছে তাই মৃত্যুকূপ। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের যে কেউ বাদ পড়তে পারে। আবার সেরা তৃতীয় দলের নিয়মে ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল তিন দলই উঠতে পারে প্রি-কোয়ার্টারে।
২০১৬ ইউরোতে পর্তুগালের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল ফ্রান্স। এবার বাছাইয়ের ১০ ম্যাচের ৮টি জিতেছে, ড্র একটি, হার একটি। ফ্রান্স এর আগে দু’বার জিতেছে ইউরো। যার সবশেষটি ২০০০ সালে। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন ফ্রান্সের বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশমস। ২০১২ থেকে ফ্রান্সের কোচ তিনি। ফিফা র্যাংকিংয়ে দুইয়ে তারা। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দলে প্রতিটি পজিশনে অন্তত দু’জন করে ভালো খেলোয়াড় আছে। ২০১৫’র পর জাতীয় দলে ফিরেছেন করিম বেনজেমা। কিলিয়ান এমবাপে, আন্তোইন গ্রিজমানের সঙ্গে বেনজেমা যোগ দেওয়ায় আক্রমণভাগ হয়েছে আরও শক্তিশালী। গত ইউরোর সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন গ্রিজমান। আছেন অলিভিয়ের জিরু। মধ্যমাঠে আছে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী চেলসির এন’গোলো কান্তেএবং পল পগবার মতো খেলোয়াড়। রক্ষণে রাফায়েল ভারানে ও বেঞ্জামিন পাভার্ডের মতো পরীক্ষিতরা। প্রস্তুতি ম্যাচেও দারুণ খেলেছে ফ্রান্স। ওয়েলসকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা। আজ বুলগেরিয়ার সঙ্গে শেষ প্রীতি ম্যাচটি খেলবে তারা। তবে অন্য বড় দলগুলোর মতো দেশের মাটিতে গ্রুপ পর্ব খেলার সুযোগ পাচ্ছে না ফ্রান্স। জার্মানির সঙ্গে খেলা মিউনিখে, পর্তুগাল ও হাঙ্গেরির সঙ্গে খেলা দুটি বুদাপেস্টের ফেরেঙ্ক পুসকাস অ্যারেনায়।
পর্তুগাল ইউরোর জন্য যে দল ঘোষণা করেছে তাকে বলা হচ্ছে তাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী স্কোয়াড। মূল ভরসা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তা সবারই জানা। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ ও গোল করার কীর্তি তার। বয়স ৩৬, তাই এটি রোনালদোর শেষ ইউরো হওয়ার জোর সম্ভাবনা। শিরোপা ধরে রাখতে চাইবেন সিআরসেভেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নার্দো সিলভা, জোয়াও ফেলিক্সের মতো খেলোয়াড়। এবার বাছাইপর্বে আট ম্যাচের ৫টি জিতেছে পর্তুগাল, ড্র দুটি, হার একটি। রোনালদো করেন সর্বোচ্চ ১১ গোল। ২০১৪ থেকে ফার্নান্দো সান্তোস পর্তুগালের কোচ। ইউরো জয়ের পর ২০১৮-১৯ নেশন্স লিগও জিতেছে পর্তুগাল। ২০২০-২১ নেশন্স লিগে অবশ্য সেমিতে উঠতে পারেনি তারা। তিন নম্বর গ্রুপে তাদের সঙ্গী ছিল ফ্রান্স। একটিতে ড্র, অপরটিতে হেরেছিল পর্তুগাল। ফিফা র্যাংকিংয়ে ছয় নম্বরে আছে পর্তুগাল।
জার্মানি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সবচেয়ে সফল দল। স্পেনের সমান সর্বোচ্চ তিনবার শিরোপা জিতেছে। তবে অন্য সবার চেয়ে সবচেয়ে বেশি ৬ বার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু বর্তমানে যেন নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে তারা। ফিফা র্যাংকিংয়ে ১২ নম্বরে আছে তারা। নেশন্স লিগে ছয় ম্যাচের দুটি জিতেছিল জার্মান। ড্র তিন ম্যাচ। একমাত্র হারটা ছিল স্পেনের কাছে ০-৬ গোলে। বিশ্বকাপ বাছাইয়েও তিন ম্যাচের একটিতে উত্তর মেসিডোনিয়ার মতো খর্ব শক্তির দলের কাছে হেরেছে জোয়াকিম লো-র দল। ইউরো বাছাইপর্বে অবশ্য ফলাফল ভালোই তাদের। আট ম্যাচের ৭টি জয়। হার একটি। নেদারল্যান্ডসকে পেছনে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।
কিংবদন্তি পুসকাসের যুগে হাঙ্গেরি দু’বার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিল। তবে সে অনেক দিন আগের কথা (১৯৩৮, ১৯৫৪)। ১৯৮৬’র পর থেকে আর মূল পর্বে উঠতে পারেনি। ১৯৭২ সালের পর গত ইউরোতে মূলপর্বে খেলেছিল হাঙ্গেরি। উঠেছিল শেষ ষোলোতে। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে বর্তমানে ৩৭ নম্বরে তারা। তবে নেশন্স লিগে পুল ‘বি’ এর তিন নম্বর গ্রুপে সেরা হয়েছে হাঙ্গেরি। পরবর্তী নেশন্স লিগে তারা খেলবে পুল ‘এ’ তে। এবার প্লে-অফে বুলগেরিয়া ও আইসল্যান্ডকে হারিয়ে মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করে হাঙ্গেরি।