জয়ে ফিরল আবাহনী হারের বৃত্তে মোহামেডান

দুদলের একসঙ্গে পথচলা দুপথে গেল অবশেষে। একদিন পরই জয়ে ফিরল আবাহনী। কিন্তু হারের গেরোয় মোহামেডান। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম রানে ফিরলেন দলও জয়ে ফিরল। তার হাফ সেঞ্চুরিতে মাহমুদউল্লাহর গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে আবাহনী। উল্টোরথে থাকা মোহামেডানকে হারিয়ে টানা ৪ ম্যাচ জিতল শীর্ষের প্রাইম দোলেশ্বর। বৃষ্টিতে মাত্র ৬ ওভারে কমিয়ে আনা ম্যাচে ৭৯ রান তাড়া করতে নেমে সাকিব আল হাসানরা হেরেছে ২২ রানে। দিনের অপর বড় লড়াইয়ে শেখ জামাল ধানম-িকে ৭ উইকেটে হারিয়ে তামিম ইকবালের প্রাইম ব্যাংক উঠে এসেছে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে।

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের তিন ফিফটি

মুশফিকের ৩৫ বলে অপরাজিত ৫৩ রানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাফসেঞ্চুরি করেছেন মোসাদ্দেক। গড়েছেন এখন পর্যন্ত আসরের সবচেয়ে বড় ১০৫ রানের জুটি। মুশির চেয়ে মোসাদ্দেকের ফিফটির গতি ছিল বেশি ২৮ বলে ৩ ছক্কা ও ৪ চারে ৫০ (অপরাজিত)। তাদের দুই ফিফটিতে সৌম্য সরকারের করা টানা দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি বৃথা যায়। মিরপুরে গতকাল দুপুরের ম্যাচে আগে ব্যাট করে সৌম্যর হাফসেঞ্চুরির পরও বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয় গাজী গ্রুপ। সৌম্য ৫০ বলে ২ ছক্কা ও ৬ চারে ৬৭ রান করেন। ৩২ বলে ১ ছক্কা ও ৭ চারে ৪৩ করা শেখ মাহেদী হাসানের সঙ্গে ৯ ওভারেই ৭৮ রান তোলেন। সেখানেই শেষ। মুমিনুল ১২, ইয়াসির আলি ৯, মাহমুদউল্লাহ ৫ রান করে ফিরলে ৮ উইকেটে ১৫০-এ থামতে হয় গাজীকে। জবাবে আবাহনী শুরুতে হোঁচট খেয়েছিল ৪৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে। আগের ম্যাচে সমান ৪৯ করা নাঈম শেখ ও নাজমুল হোসেন শান্ত এবার যথাক্রমে ১০ ও ৫ রানে ফেরেন। তবে ৮.২ ওভারে জুটি বেঁধে দলকে ২ ওভার আগেই লক্ষ্যে পৌঁছে দেন মুশফিক-মোসাদ্দেক।

সাকিবদের মাড়িয়ে টানা জয় দোলেশ্বরের

বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে বৃষ্টির পর দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে শুরু হয় খেলা। কিন্তু দোলেশ্বরের ইমরান উজ্জামান ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী শামিম হোসেন যেভাবে ব্যাট করলেন তাতে মনেই হয়নি এই পিচ কাভারে ঢাকা ছিল। তাসকিন আহমেদ, রুয়েল মিয়া ও সাকিবদের ওপর তা-ব চালিয়ে মাত্র ৩.৫ ওভারে ৬৮ রানের জুটি গড়েন তারা। তাই ৬ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় তাদের ৪ উইকেটে ৭৮। ইমরান মাত্র ১৪ বলে ৫ ছক্কা ও ২ চারে ৪১ রান করেন। শামিম ১৬ বলে ২ ছক্কা ও ১ চারে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। তাদের মতো শুরু এনে দিতে পারেনি মোহামেডানের দুই ওপেনার। মজিদ-রাজ্জাক দুজনই প্রথম বলেই আউট হয়ে যান। সাকিব ১৪ বলে ২২, নাদিফ ১১ বলে ১৬ ও ইরফান শুক্কুর ৮ বলে ১১ করে হারের ব্যবধান কমিয়েছেন কেবল।

সহজ জয় প্রাইম ব্যাংকের

আগামের দিন মোহামেডানের সঙ্গে যেমন খেলেছিল গতকাল তার পুনরাবৃত্তি করতে ব্যর্থ শেখ জামাল। বিকেএসপিতে ব্যাটসম্যানদের সবাই ব্যর্থ। সর্বোচ্চ ৩৪ রান আসে সোহরাওয়ার্দি শুভর ব্যাট থেকে। তাই নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৩ রানের সাধারণ সংগ্রহ শেখ জামালের। জবাবে উদ্বোধনী জুটিতে রনি তালুকদার (৩৪ বলে ৪৮) ও তামিম ইকবালের (২৭ বলে ২৩) ৬৯ রানে জয়ের পথ পেয়ে যায় প্রাইম ব্যাংক। রান খরায় থাকা এনামুল হক বিজয় ৩৩ বলে ৩৫ করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আবাহনী ৭ উইকেটে জয়ী

গাজী গ্রুপ : ১৫০/৮ (সৌম্য ৬৭, মাহেদি ৪৩; আমিনুল ২/১৯, শহিদুল ২/৪১,)। আবাহনী : ১৫৩/৩ (মুশফিক ৫৩*, মোসাদ্দেক ৫০*; মাহেদি ১/১২) । ম্যাচসেরা : মুশফিকুর রহিম।

প্রাইম দোলেশ্বর ২২ রানে জয়ী

দোলেশ্বর : ৭৮/৪ (ইমরান ৪১, শামীম ২৯*; রাহি ২/৪, সাকিব ১/২৭) । মোহামেডান : ৫৬/৪ (সাকিব ২২, নাদিফ ১৬; শফিকুল ৩/২২) । ম্যাচসেরা : ইমরান উজজামান।

প্রাইম ব্যাংক ৭ উইকেটে জয়ী

শেখ জামাল : ১৩৩/৯ (শুভ ৩৪, সৈকত ২৮, আশরাফুল ১৬; মোস্তাফিজ ২/৩১, রুবেল ২/২৮) । প্রাইম ব্যাংক : ১৩৪/৩ (রনি ৪৮, এনামুল হক ৩৫, তামিম ২৩, মিঠুন ২১*; সালাউদ্দিন ২/১২) । ম্যাচসেরা : রনি তালুকদার।

ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৩৩ রানে জয়ী

ব্রাদার্স : ১৪৭/৮ (রাহাতুল ৫৪, নাঈম জুনি. ৩৪; তাসামুল ২/১৮, শাহাদাত ২/২৬, জয়নুল ২/৩২) । পারটেক্স : ১১৪ (ধীমান ৪৪, রাহাতুল ৪/৩৪, সজিব ২/১৩, সুজন ২/১৭) । ম্যাচসেরা : রাহাতুল ফেরদৌস।

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ১৪ রানে জয়ী

রূপগঞ্জ : ৮১/৬ (সানজামুল ২৪, নাঈম ১৮*, সোহাগ ১৩; সুমন ৩/২০, রবিউল ২/৯) । শাইনপুকুর : ৬৭/৬ (মাহিদুল ৩০; মুক্তার ২/১৪) । ম্যাচসেরা : নাবিল সামাদ

ওল্ড ডিওএইচএস ১৬ রানে জয়ী

ওল্ড ডিওএইচএস : ১২০/৪ (ইমন ৪৪, রায়ান ৩৭, মাহমুদুল ২৯*; খালেদ ৩/২৪)। খেলাঘর : ১০৪/৫ (ইমতিয়াজ ৩৩, জহুরুল ৩৭*, মাসুম ১৬; রকিবুল ২/১৬)। ম্যাচসেরা : আনিসুল ইসলাম ইমন।