কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়া বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের শরিফুল ইসলাম নামের এক ট্রেন পরিচালকে শনিবার ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
খুলনা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ‘চিত্রা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে আলাদা একটি বগি (যার নম্বর ৭১২৪) যুক্ত করে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এটা কোয়ারেন্টাইন কোচ। শনিবার তাকে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়। অতিরিক্ত একটি বগিতে তিনি একাই ঢাকায় যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছেন ট্রেন পরিচালক শরিফুল ইসলাম। কোনোভাবেই জ্বর কমছে না। তিন দিন থেকে কাশি শুরু হয়েছে। দেখা দিয়েছে শ্বাসকষ্টও।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে তার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার সকালে খুলনা-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী ‘চিত্রা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে একটি অতিরিক্ত বগি সংযোজন করে শুধু তাকে একাই ঢাকা পাঠানো হয়েছে। ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তাকে ভর্তি করার কথা রয়েছে।
এদিকে সহকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছেন, তাই তাকে একনজর দেখার জন্য বেশ কয়েকজন ট্রেন পরিচালক (গার্ড) ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে অপেক্ষা করেন।
বেলা ২টার দিকে ট্রেনটি ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে এসে পৌঁছালে করোনা আক্রান্ত ট্রেন পরিচালক নিজেই ট্রেনের ভারী দরজা খুলে সেখানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষমাণ অন্য ট্রেন পরিচালকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কথা বলেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ গার্ড কাউন্সিল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত রোগীকে বহনের জন্য ট্রেনে আইসোলেশনের বিধান আছে। আর যাত্রীর জন্য বরাদ্দকৃত আসন ফাঁকা না থাকায় জিএম মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী চিত্র এক্সপ্রেস ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করে করোনা আক্রান্ত ওই ট্রেন পরিচালককে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর ঈশ্বরদীর পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম আক্রান্ত হলে তাকেও রাজশাহী থেকে বনলতা এক্সপ্রেস টেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।’
এ বিষয়ে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি জানেন। এই বিষয়টির অনুমতি হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক এর কার্যালয় থেকে।
যেকোনো ‘সিরিয়াস’ রোগীকে বহনের জন্য এ ধরনের ব্যবস্থার নিয়ম রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুরো কোচের ভাড়া আক্রান্ত ট্রেন পরিচালক শরিফুল ইসলাম দেবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘না, শুধুমাত্র তার পাস ইস্যু করে এটি করা হয়েছে।’
তিনি বাদে অন্য রোগীদের জন্য এমনটি করা হয়নি বলেও জানান রেলের এই কর্মকর্তা। আক্রান্ত সবার জন্য এমন ব্যবস্থা করতে গেলে সংকটের সৃষ্টি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ বলেন, ‘শরিফুল ইসলাম কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। তাই আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বললেন, তাকে ঢাকায় নিতে হবে। সে জন্য চিত্রা এক্সপ্রেসে তার জন্য আলাদা একটি বগি যুক্ত করে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এটা কোয়ারেন্টাইন কোচ। করোনা রোগীদের জন্য এই কোচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকায় পৌঁছার পর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হবেন।’