বেসরকারিতে পজিটিভ সরকারিতে নেগেটিভ

মাত্র দুদিনের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে মো. জিসান নামে এক কিশোরের করোনা পরীক্ষার ভিন্ন ফল পাওয়া গেছে। প্রথমে বেসরকারি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নমুনা পরীক্ষায় তার রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ আসে। এরপর খানপুরের ৩০০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে জিসানের নমুনা পরীক্ষার ফল ‘নেগেটিভ’ এসেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্যানসারে আক্রান্ত ওই কিশোরটির পরিবার।

১৯ বছর বয়সী জিসান ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহন মিয়ার একমাত্র ছেলে। নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে সুতা লোড-আনলোডের কাজ করে তিন সদস্যের সংসার চালান মোহন মিয়া। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাত্র এক মাস আগেই ছেলের মাথায় টিউমারের অপারেশন করিয়েছি, তার ওপর ধরা পড়েছে ক্যানসার। সুচিকিৎসা নিতে হলে করাতে হবে করোনা টেস্ট, হতে হবে করোনামুক্ত। এই পরিস্থিতিতে যখন করোনা পজিটিভ শুনেছি, তখন থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। করোনার কথা শুনে স্বজন বা প্রতিবেশীরা একটিবারের জন্যও সহানুভূতি পর্যন্ত দেখায়নি। রাস্তার এক পাশে দেখলে অন্য পাশে চলে গেছে। করোনা শুনে অসুস্থ ছেলেকে সেবাটুকুও করতে পারিনি।’

জিসানের স্বজনরা জানান, গত ১৪ এপ্রিল তার মাথায় টিউমার ধরা পড়ে। ২৫ এপ্রিল সেই টিউমারের অপারেশন হয়। এরপর ক্যানসার ধরা পড়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরিভিত্তিতে তার করোনা পরীক্ষার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। গত ৫ জুন নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জিসান নমুনা দেয়। এজন্য দিতে হয় ২ হাজার ৩০০ টাকা। পরদিন তার রিপোর্ট আসে পজিটিভ (করোনা আক্রান্ত)। কিন্তু পপুলারের রিপোর্ট নিয়ে মোহন মিয়ার মনে সন্দেহ দেখা দেয়। এরপর ৭ জুন ১০০ টাকা দিয়ে খানপুরের ৩০০ শয্যা হাসপাতালে আবারও করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেয় জিসান এবং ৮ জুন সেই রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, ‘এক-দুই দিনের ব্যবধানে কখনোই করোনা পজিটিভ হয় না। কোনো একটি রিপোর্টে ভুল রয়েছে।’

জিসানের বাবা মোহন মিয়া আরও বলেন, ‘জরুরিভিত্তিতে যে চিকিৎসার জন্য করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছে, ভুল রিপোর্টের ফলে তার ছেলে সেই চিকিৎসাই এখন পর্যন্ত নিতে পারেনি। ১৩ জুন হাসপাতালে গেলে বোঝা যাবে, ভুল রিপোর্টের মাশুল কত দিন দিতে হবে!’

এ রিপোর্ট প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার শহীদুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘কারটা ভুল আর কারটা সঠিক সেটা আমি বলতে পারব না। আমাদের রেকর্ড দেখে বলতে হবে। তার জন্য রিপোর্ট নিয়ে আসতে হবে। তারপরই বলতে পারব ঘটনা কী।’ এ সময় রিপোর্টের ছবি পাঠাব কি না, জানতে চাইলে মিটিংয়ে আছেন বলে ফোনটি রেখে দেন এবং সেন্টারে গিয়ে এ প্রতিবেদককে তার সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক আবুল বাসার জানান, ‘আমাদের হাসপাতালে যোগ্যতাসম্পন্ন চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্ট রয়েছে। এছাড়া কোনো রিপোর্ট সন্দেহজনক হলে একাধিকবার টেস্ট করে রিপোর্ট দেওয়া হয়। তাই খানপুরের পরীক্ষার রিপোর্টই গ্রহণযোগ্য।’