দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা হিলিতে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় সাত দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। মঙ্গলবার সকাল থেকে এ কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।
সোমবার বিকেল ৪টায় হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় নেয়া অন্যান্য সিদ্ধান্তগুলো হলো, সব ধরনের দোকানপাট সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে, এসব দোকানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে। ওষুধের দোকান সব সময় খোলা থাকবে। তবে অবশ্যই ওষুধ নিতে আসা ব্যক্তির প্রেসক্রিপশন থাকতে হবে। ভিড় করা যাবে না। ৩ ফুট দূরত্ব মেনে ওষুধ কিনতে হবে। সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হোটেলে অর্ধেক আসনে বসে খাওয়াতে পারবে। এরপর শুধুমাত্র পার্সেল খাবার বিক্রি করতে পারবে। অটোরিকশা ও সিএনজিতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন সকালে প্রত্যেক এলাকায় গিয়ে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম স্যাম্পল কালেকশন করবে। যারা করোনায় আক্রান্ত হবেন তাদের বাড়ি লকডাউন করা হবে। প্রয়োজনবোধে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলমের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ, ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুর রেজা, হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আল হাসান, হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান, হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল আজিজ, বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক আরমান আলীসহ অনেকে।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, হিলিতে দিন দিন করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে। এমন অবস্থায় করোনা প্রতিরোধ কমিটির জরুরি সভায় মঙ্গলবার থেকে ২২ জুন পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধসহ বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এসব নির্দেশনা সঠিকভাবে মানতে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক বিষয়গুলো তদারকি করা হবে। যদি এ এক সপ্তাহ সবাই সঠিকভাবে নির্দেশনা মেনে চলেন, তাহলে করোনা সংক্রমণের হার অনেক কমে আসবে। আর যদি না হয়, সে ক্ষেত্রে লকডাউনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে।
গত দুদিনে সীমান্তবর্তী এলাকা হিলিতে কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পৌরসভার কর্মচারীসহ মোট ১৭ জন করোনায় আক্রান্ত হন। এ নিয়ে হিলিতে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩৫। এর মধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১০১ জন, বর্তমানে ৩৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।