পরীমণির ঘটনায় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নিন্দা প্রকাশ

গত ৯ জুন উত্তরা বোট ক্লাবের পরিচালক নাসির ইউ মাহমুদ ও ব্যবসায়ী অমি পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যা করার চেষ্টা করে। ১৩ জুন পরীমণি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি লেখেন। পরে সেদিন রাত ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করেন। ১৪ জুন তিনি সাভার থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অমি, নাসিরসহ তিন নারীকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় পরীমণির পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। ১৪ জুন রাতে শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দাজ্ঞাপন করা হয়েছে।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় বোট ক্লাবে চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই মামলা রুজু হয়ে গেছে এবং কিছু আসামী গ্রেপ্তার হয়েছে। উক্ত মামলায় দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি পরীমণির সার্বিক সহযোগিতা করতে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ।’

এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে জায়েদ খান বলেন, ‘পরীমণির সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা খুবই অপ্রীতিকর। তিনি আমাদের সমিতির মেম্বার। আমরা তাকে সর্বাত্মক সহায়তা করব।’

এদিকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর পরীমণি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করায় ভরসা পাচ্ছি। আশা করি ন্যায্য বিচার পাবো।’

উল্লেখ্য, মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি ও অমির সঙ্গে দুটো গাড়িতে করে উত্তরার দিকে যান পরীমণি। তার ছোট বোনও সে সসময় সঙ্গে ছিলেন। পথে অমির কথায় বোট ক্লাবের সামনে থামেন তারা। অমি তাদের ভেতরে ঢোকার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। পরে নাসির মাহমুদ কফি পানের আমন্ত্রণ জানান বলে মামলায় বলা হয়। এরপর অমি মদ পানের জন্য জোরাজুরি করে। আমি মদ্যপান করতে না চাইলে ১ নং আসামি (নাসির) জোর করে আমার মুখের মধ্যে বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। নাসির মাহমুদ তখন ‘অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ’ করতে থাকেন এবং ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন পরীমণি।