করোনা: হিলিতে ৭ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ

সীমান্তবর্তী এলাকা দিনাজপুরের হিলিতে করোনা সংক্রমণ বাড়তির দিকে থাকায় সংক্রমণ রোধে মঙ্গলবার থেকে ৭ দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আগামী ২২ জুন পর্যন্ত এই কঠোর বিধিনিষেধ জারি থাকবে। এদিকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ার পরেও বাজারে অনেক মানুষজনই স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক ব্যবহার করছেন না।

সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও সাধারণ মানুষজনের মাঝে এ নিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। আগের মতোই মানুষজন মাস্ক ছাড়াই বাজারে ঘোরাফেরা করছেন,  দোকানগুলোতে পণ্য ক্রয় করছেন। দু-একজন মাস্ক পরলেও তা থুতনিতে নামিয়ে রাখছেন, কেউবা সাইকেলে বা ভ্যানের হ্যান্ডেলে ঝুলিয়ে রাখছেন। দোকানগুলোতে পণ্য বিক্রয়ে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।

এদিকে কঠোর বিধিনিষেধ পালনে প্রশাসনের কোন নজরদারি লক্ষ্য করা যায়নি।  

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, বিগত কয়েক দিন ধরে হিলিতে করোনার সংক্রামকের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন চিত্র পরিলক্ষিত হয়। এমন অবস্থায় উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির নির্দেশনা মোতাবেক আমরা হিলিতে করোনা সংক্রমণ কমাতে সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়।

সেগুলো হল- বাজারে জনসমাগম কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সকল দোকান খোলা থাকবে। ৪টার মধ্যে সকলে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে আর কেই সেখানে জমায়েত হবে না।

ওষুধের দোকান ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে, সামাজিক দূরত্ব মেনে ক্রয় বিক্রয় করতে হবে।

সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হোটেলে অর্ধেক আসনে বসে খাওয়াতে পারবে। এরপর শুধুমাত্র পার্সেল খাবার বিক্রি করতে পারবে।

মোহাম্মদ নূর-এ আলম আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, যথাসম্ভব জনসমাগমের স্থানগুলোতে জনসমাগম কমিয়ে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়। আমরা প্রথম অবস্থায় সাত দিনের জন্য এই বিধিনিষেধ আরোপ করেছি, যদি এতে সংক্রমণ না কমে ও প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় তাহলে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশ মোতাবেক বিধিনিষেধের সময় আরও বাড়ানো হবে।