লিওনেল মেসি-গ্যারি মেডেলের মধ্যকার সেই কুৎসিত কাণ্ডের পর তৃতীয়বার চিলির সঙ্গে খেলল আর্জেন্টিনা। এবারও ড্র! ২০১৯-র সেপ্টেম্বরে লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রীতি ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকায় খেলেননি মেসি। গত ৪ জুন বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে মেসির গোলে এগিয়ে গেলেও ১-১ গোলে ড্র করে চিলি। ১০ দিনের মাথায় সোমবার কোপা আমেরিকার গ্রুপ ম্যাচেও ৩০ গজ দূর থেকে ট্রেডমার্ক ফ্রি কিকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন এবারও মেসি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে সমতা আনা চিলির বিপক্ষে গোলমুখের ব্যর্থতায় জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে বড় টুর্নামেন্টে আলবিসেলেস্তেদের লড়াকু মানসিকতার ঘাটতি। ম্যাচে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডদের মোট শট ছিল ১৮টি। এর মধ্যে অন টার্গেট শট মাত্র ৫টি। যার অধিকাংশই সেভাবে পরীক্ষা নিতে পারেনি চিলির বর্ষীয়ান গোলকিপার ক্লদিও ব্রাভোকে।
বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচে মেসি-ব্রাভো দ্বৈরথে জিতেছিলেন চিলির অধিনায়ক। মেসির ভয়ংকর এক ফ্রি-কিক ঠেকিয়েছিলেন ব্রাভো অসাধারণ দক্ষতায়। মেসির আরেকটি শট ফিরেছিল পোস্টে। এবার অবশ্য মেসিকে রুখতে পারেননি ব্রাভো। রিও ডি জেনেইরোর সান্তোস স্টেডিয়ামে ৩৩ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির বাঁ পায়ের ফ্রি-কিক বাঁক খেয়ে ডান কোনা দিয়ে প্রবেশ করে জালে। ব্যবধানটা অবশ্য প্রথমার্ধেই বাড়তে পারত আর্জেন্টিনার। কিন্তু মেসির বানিয়ে দেওয়া একাধিক সুযোগে ঠিকঠাক পা ছোঁয়াতে পারেননি লাউতারো মার্তিনেজ ও নিকোলাস গঞ্জালেজ।
কোপার ইতিহাসে আর্জেন্টিনার কাছে কখনই নির্ধারিত ৯০ মিনিটে হারেনি চিলি। তবে মেসি ম্যাজিকে সেই রেকর্ড ভেঙে যাওয়া শঙ্কা ছিল ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকায় টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনাকে হারানো চিলির। দলের আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র অ্যালেক্সিস সানচেজ চোটের কারণে ছিলেন না। ফলে আর্জেন্টিনার রক্ষণে চিড় ধরানোটাই ছিল চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জে জয়ের পথে তারা পেয়েছে ভাগ্য ও প্রযুক্তির সহায়তা। ৫৩ মিনিটে বার্সেলোনা ছেড়ে আগের মৌসুমে ইন্তার মিলানে যোগ দেওয়া আর্তুরো ভিদালকে ফেলে দেওয়া হয় ডি বক্সে। কলম্বিয়ার রেফারি দীর্ঘক্ষণ ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান চিলির পক্ষে। ভিদালের স্পট কিক ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন কিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। কিন্তু ফিরতি বলে হেড করে লক্ষ্যভেদ করেন এদুয়ার্দো ভার্গাস। বাকি সময়ে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডদের গোল মিসের মহরায় শেষ হয়েছে খেলা।
শনিবার আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় ম্যাচের প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে। সেদিনই চিলি খেলবে বলিভিয়ার সঙ্গে, যাদের সোমবার ৩-১ গোলে হারিয়েছে প্যারাগুয়ে। চিলির কাছে পয়েন্ট হারানোর পর আরও বেশি সতর্ক হয়ে উরুগুয়ে মোকাবিলার কথা বলেছেন মেসি, ‘জয় দিয়ে শুরু করতে চেয়েছিলাম। কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে জয়ে শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমাদের সামনে এখন উরুগুয়ে। যারা আরও চ্যালেঞ্জ নিয়ে দাঁড়াবে আমাদের সামনে। শুরুতেই দু’টি কঠিন ম্যাচ খেলতে হচ্ছে আমাদের। প্রথম ম্যাচে পারিনি। তাই উরুগুয়েকে অবশ্যই আমাদের হারাতে হবে।’
বাতিগোলকে ছাড়ালেন মেসি
চিলির বিপক্ষে ৪ জুনের ম্যাচে গোল করে প্রতিযোগিতামূলক খেলায় গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার ৩৮ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন মেসি। সোমবারের ফ্রি-কিকের গোলে বাতিগোলকে ছাড়িয়ে যান তিনি। মোট ৯৮টি ম্যাচ খেলে এ গোলগুলো করেছেন এ তারকা। যার ছয়টি এসেছে বিশ্বকাপে, ২৩টি বাছাই পর্বে এবং ১০টি কোপা আমেরিকায়। ওই গোলে সময়ের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও ছাড়িয়েছেন মেসি। ফ্রি কিক গোলের এতো দিন রোনালদোর সমান ৫৬টি গোল ছিল তার। এদিন ৫৭ তম ফ্রি কিক গোল পেলেন। এছাড়া আরও একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছেন মেসি। এতদিন আর্জেন্টিনার হয়ে আমেরিকো তেসোরিয়েরে ছিলেন একমাত্র খেলোয়াড় যিনি খেলেছিলেন ৬ কোপা আমেরিকায়। ২০০৭, ২০১১, ২০১৫, ২০১৬, ২০১৯-এর পর কোপার এই আসরে অংশ নিয়ে পূর্বসূরির সেই রেকর্ড স্পর্শ করলেন।