তিকিতাকা ফুটবল। বল নিজেদের পায়ে ৭৫ শতাংশ। ৯৪৮ পাস খেলল নিজেদের মধ্যে। ১৭টি শট পোস্ট লক্ষ্য করে। কিন্তু হায় একটিও গোল যে হলো না! ফিনিশিংয়ের অভাবেই সুইডেনের সঙ্গে ম্যাচটি গোলশূন্য থাকল অন্যতম ফেভারিটদের।
২০০৮ ইউরো, ২০১০ বিশ্বকাপ, তারপর আবার ২০১২ ইউরো জয়। তিকিতাকা ফুটবল খেলেই এমন সাফল্য পেয়েছিল স্প্যানিশরা। সে সময় মধ্যমাঠে ছিলেন জাভি-ইনিয়েস্তারা। তারা নিজেদের মধ্যে পাস খেলে বলটা গোলমুখে দিতেন। বাকি কাজটা করতেন ডেভিড ভিয়া, ফার্নান্দো তোরেসরা। সোমবার সেভিয়ায় সুইডেনের বিপক্ষে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে খেলান কোচ লুইস এনরিকে। মাঝমাঠে বলের দখল ভালো থাকলেও তিন ফরোয়ার্ড (আলভারো মোরাতা, ফেরান তোরেস, দানি ওলমো) গোল করতে ব্যর্থ। তবে স্প্যানিশদের বিপক্ষে দেয়াল হয়েছিলেন সুইডিশ গোলকিপার রবিন ওলসেনও।
সাড়ে ১১ হাজার দর্শকের সামনে ম্যাচের ১৬ মিনিটে কোকের ক্রসে ওলমোর জোরালো হেড বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে ফেরান সুইডিশ গোলকিপার। ৩৮ মিনিটে ডি-বক্সে জর্দি আলবার বাড়ানো পাস ফাঁকায় বল পান মোরাতা। কিন্তু শটটি পোস্টে রাখতে পারেননি এই জুভেন্তাস ফরোয়ার্ড। একাদশে কেন জেরার্ড মোরেনোকে রাখেননি এনরিকে, সেই আফসোস করা যেতেই পারে এই মিসটি দেখে। ভিয়ারিয়ালের হয়ে গেল মৌসুমে ২৩ গোল করা মোরেনোকে পরে ওলমোর জায়গায়, মোরাতার জায়গায় সারাবিয়াকে নামান কোচ। ৪১ মিনিটে সুইডিশ স্ট্রাইকার আলেকজান্দার ইসাকের শট ডিফেন্ডার মার্কোস লরেন্তের পা ছুঁয়ে পোস্টে লাগে। দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের সুযোগ নষ্ট করেন মোরাতা ও ওলমো।
স্প্যানিশরা যেমন মিস করেছে, ৪-৪-২ ফর্মেশনে সুইডিশরাও ডিফেন্সিভ খেলেছে। এর সমালোচনা করেছেন এনরিকে, ‘তারা (সুইডেন) রক্ষণাত্মক খেলেছে। এটি সঠিক ফল নয়। আমরা অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম কিন্তু ফিনিশ করতে পারিনি।’ স্প্যানিশ ডিফেন্ডার আয়মেরিক লাপোর্তে ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আমরা যদি এভাবে (রক্ষণাত্মক) দশ ম্যাচ খেলি, নয়টিতেই জয় পাব।’ তবে ব্যর্থতা যে স্প্যানিশদের তা বলার অপেক্ষা রাখে না।