বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গতকালের সভার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ক্রিকেটারদের নতুন চুক্তি। সাকিব আল হাসান ফিরছেন কি না, কাদের রাখা হবে বা কাদের রাখা হবে না এসব নিয়েই কথা হওয়ার ছিল। কিন্তু সব ছাপিয়ে গেল ডিপিএলের সাকিব কা-। আম্পায়ারিং নিয়ে যে বিতর্ক সামনে এসেছে সে-সবের তদন্ত সবার সামনে চলে এলো। কিন্তু সভাশেষে বিসিবি প্রেসিডেন্ট জানালেন, গত একদিনে তদন্ত কমিটি যে কাজ করেছে তাতে ডিপিএলে খেলা কোনো দল বা দলের অধিনায়ক আম্পায়ারিং নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি।
২০১৬-১৭ মৌসুমের দিকে ঘরোয়া লিগে আম্পায়ারিং নিয়ে অনেক অভিযোগ ছিল। এরপরই লিগের খেলাগুলোয় ক্যামেরা বসানো হয়। কিন্তু এবারের বিষয়টি নিয়ে দারুণ ক্ষুব্ধ বিসিবি প্রধান। সাকিব আল আসানের অসদাচরণ ও আম্পারিংয়ের অভিযোগ শুনে খেলা বন্ধই করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু টুর্নামেন্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নামে বলেই পরে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। গঠন করেন তদন্ত কমিটি। এই কমিটি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে নানা অভিযোগ নিয়ে। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, একটি দলও আম্পায়ারিং নিয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। ‘দলগুলোকে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। সই করে যে অভিযোগ দেয় সেখানে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এরপর সবগুলো ক্লাবের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। অধিনায়কের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এখন পর্যন্ত, একজন অধিনায়ক, একজন ম্যানেজর বা কেউ আম্পায়ারিং নিয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। অধিনায়করা নাকি এটাও বলেছে যে, তাদের দেখা এটা সেরা টুর্নামেন্ট। কিন্তু একটা ব্যাপার শেষ করা তো সহজ না। তাই বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি সামনে সেই কাজ করবে।’
সাকিবের সঙ্গে আলোচনা বাকি : ক্রিকেটারদের চুক্তির ব্যাপারটি সম্পন্ন হয়েছে। ১৮-২০ জন ক্রিকেটার আছেন এবারের চুক্তিতে। কিন্তু ঘোষণা দেওয়া যাচ্ছে না ব্যক্তিগতভাবে তাদের সঙ্গে আলোচনা বাকি। কোনো ক্রিকেটার টেস্টে খেলবেন কি-না, বিষয়টি নিয়ে আলাদা আলোচনা করতে পারেনি বোর্ড। দু’একদিনের মধ্যেই এই ঘোষণা দেবে ক্রিকেট অপারেশন্স। আরও যে কারণে ঘোষণা পিছিয়েছে তা হলো যারা বাদ পড়েছেন তাদের বাদ পড়ার কারণ ব্যাখ্যা আকারে আসেনি।
ছায়া দল ‘বাংলাদেশ টাইগারস’ : বারবার প্রাথমিক দলে ডাক পাওয়া এবং মূল দলের বাইরে চলে যাওয়া ক্রিকেটারদের জন্য সুখবর দিয়েছে বিসিবি। এই ক্রিকেটাররা দলের বাইরে থাকলে কেন্দ্রীয় ক্রিকেটীয় সুযোগ-সুবিধার কিছুই ভোগ করতে পারেন না। এতে তাদের স্কিলও পড়ে যায়। তাদের জন্য ছায়া জাতীয় দল গঠন করবেন নির্বাচকরা। নাম হবে বাংলাদেশ টাইগারস। হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর তত্ত্বাবধান বা পরামর্শে সারা বছর এই দল নিয়ে কাজ করবেন স্থানীয় কোচরা। এতে সিরিজের মাঝপথে অপ্রস্তুত কাউকে আর দলে নিতে হবে না বলে জানান পাপন।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক : ২০২৪ থেকে ২০৩১ আগামী ৮ বছরের চক্রে দুটি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হবে। এই দুই আসরের আয়োজক হওয়ার জন্য আইসিসির কাছে আবেদন করবে বিসিবি। কারণ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তুলনামূলক কম ভেন্যুর প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিশ্বকাপ আয়োজন করা কঠিন। কারণ একটি বিশ্বকাপে কমপক্ষে ১০টি স্পেশালাইজড স্টেডিয়াম লাগে। যেটি আপাতত বাংলাদেশের নেই। তাই বিশ্বকাপের আয়োজক হতে হলে এশিয়ার প্রতিবেশী শক্তিদের নিয়েই এগোবে বিসিবি।
এছাড়া গতকালের বোর্ড সভায় ৭ জুলাই বিসিবির এজিএমের তারিখ নির্ধারিত হয়। আর আগামী চক্রের বাজেট নির্ধারিত হয়েছে ২৬০ কোটি টাকার। একই সভায় ২২ নারী ক্রিকেটারের পূর্ণ চুক্তি অনুমোদন দিয়েছে বিসিবি।