বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করার দাবিতে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অঙ্কুর ফাউন্ডেশন’।
শুক্রবার দুপুরে বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে এই দাবিতে মানববন্ধন এবং আবরার ফাহাদকে উৎসর্গ করে ‘এক মুঠো ভাত’ নামে এই কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। সেখানে বুয়েটের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের একটি অংশ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল ১০ টায় আবরার ফাহাদের পৈতৃক নিবাস কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। একই দিনে সারা দেশে অঙ্কুর ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ জেলায় এই কর্মসূচি পালন করেছেন বলে জানান আয়োজকরা।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
মানববন্ধনে সংগঠনটির দাবি, শুরুতে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের কথা বলা হলেও এই ঘটনার প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হতে চলছে, কিন্তু বিচারকার্যের তেমন অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুয়েট থেকে আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বিটু ক্লাসে ফিরেছে।
আববার হত্যার বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও সাম্প্রতিক ঘটনায় আবরার হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তানভীর এহসানুর রহমান বলেন, আবরারের মৃত্যু একটি মর্মান্তিক ঘটনা, যেটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আবরার ফাহাদের মৃত্যুর পর বুয়েট আজকে রাজনীতি মুক্ত হয়েছে। আরও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আবরার ফাহাদের বিচার এখনো শেষ হয়নি। করোনা পরিস্থিতিতে আদালত বন্ধ থাকার কারণে সেটি দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করব, দ্রুত সুষ্ঠু বিচার হবে।
মানববন্ধনে আবরার ফাহাদের বিভাগের শিক্ষার্থী আফরিনা আক্তার আনিকা বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনপঞ্জিকার একটি খুবই হতাশাজনক দিন হচ্ছে ৬ অক্টোবর ২০১৯। এই দিনে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তবে এ হত্যার এক বছর নয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও দেখা যাচ্ছে আমরা কোনো সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছি না। আমরা আজকে এই কর্মসূচি থেকে দ্রুত তার বিচারকার্য শেষ আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন অঙ্কুর ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী সদস্য সুস্মিতা মজুমদার।