বিদেশি জাহাজে নিরাপত্তা প্রহরী নিচ্ছে না শিপিং এজেন্ট

মোংলা বন্দরে আসা বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে নিরাপত্তা প্রহরী (ওয়াচম্যান) নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও সেই নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শিপিং এজেন্টদের বিরুদ্ধে। এতে পণ্য চুরি ও পাচারের আশঙ্কায় হুমকিতে রয়েছে বাণিজ্যিক এসব জাহাজ। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, বন্দরে আসা জাহাজের শিপিং এজেন্টদের নিরাপত্তা প্রহরী দিতে বলা হলেও তারা কথা শোনে না।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরাও এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি, তবে জাহাজে ওয়াচম্যান বুকিং দিতে যেসব শিপিং এজেন্ট গাফিলতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।

মেসার্স টোগি শিপিং এজেন্টের খুলনার অপারেশন বিভাগের দায়িত্বে থাকা মো. হোসেন ইমাম বলেন, ‘আমাদের একটা জাহাজের ক্ষেত্রে ওয়াচম্যান নেওয়া হয়নি, ভবিষ্যতে ওয়াচম্যান যাতে দেওয়া হয়, সে জন্য জাহাজ মালিকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

অপর শিপিং এজেন্ট ইস্টকোস্টের খুলনার ম্যানেজার মো. আকরাম হোসেনকে এ ব্যাপারে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

মোংলা বন্দর স্টিভিডরিং ওয়াচম্যান ওয়েলফেয়ার সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল ফকির বলেন, শিপিং এজেন্ট ইস্টকোস্টের আকরাম হোসেনকে ওয়াচম্যান বুকিং দেওয়ার কথা বলা হলে  তিনি কোনো ওয়াচম্যান নেওয়া হবে না বলে জানান। এ ব্যাপারে বন্দরের  ট্রাফিক বিভাগে একাধিক অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলেও জানান বাবুল।

এদিকে ২০১৭ সালের ৫ আগস্ট নৌ পরিবহনমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বন্দর উপদেষ্টা কমিটির ১৪তম সভায় কার্যবিবরণীর ১৯ নম্বর সিদ্ধান্তে মোংলা বন্দরে আসা বিদেশি জাহাজে ওয়াচম্যান নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে জাহাজে ওয়াচম্যান নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়টি জানা ছিল না জানিয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্দরের স্বার্থে জাহাজে শতভাগ ওয়াচম্যান বুকিং দিতে হবে। যারা এ নিয়ম মানবে না ওই সব শিপিং এজেন্টের লাইন্সেস বাতিল করা হবে বলেও জানান তিনি।