হাঙ্গেরিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ইউরো শুরু করা পর্তুগাল জার্মানির কাছে ডুবল আত্মঘাতী গোলে। তাও একটি নয়, দু’দুবার নিজেদেরই জালে বল ঢুকিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। নিজেরাও গোল করেছে দুটি। তবে ফ্রান্সের কাছে ০-১ গোলে হেরে শুরু করা জার্মানি ঘুরে দাঁড়িয়েছে দুর্দান্তভাবে। ৪-২ গোলে হারিয়ে মৃত্যুকূপে পর্তুগালকে ঠেলে দিয়েছে তৃতীয় স্থানে। শেষ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পাওয়া ফ্রান্সের সঙ্গে খেলতে হবে রোনালদোদের।
‘পর্তুগালকে হারাতে আক্রমণভাগকে হতে হবে ধারালো’Ñকোচ জোয়াকিম লো’র ডাকে সাড়া দিয়েছেন মুলার-হাভার্টজরা। নিজেদের মাঠে প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই আক্রমণাত্মক ফুটবলে ছড়ি ঘুরিয়েছে তারা পর্তুগালের ওপর। ঘর সামলাতে ব্যস্ত পর্তুগাল নিজেদের সীমানা থেকে বেরই হতে পারছিল না। এর মাঝেই অসাধারণ এক প্রতি-আক্রমণে এগিয়ে যায় দলটি ১৫ মিনিটে। প্রতিপক্ষের কর্নার হেডে ক্লিয়ার করে দৌড়ান রোনালদো। তার হেড থেকেই বল পেয়ে এগিয়ে যান বার্নার্নো সিলভা, মাঝমাঠ থেকে বাড়ান দারুণ ক্রস। বুক দিয়ে বল নামিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন ডিয়েগো জোতা। সামনে একমাত্র বাধা গোলরক্ষক। ততক্ষণে পাশে চলে এসেছেন রোনালদো। জোতা পাস দেন রোনালদোকে। অনায়াসে টুর্নামেন্টে তার তৃতীয় গোল করেন। ১৭৭ ম্যাচে রোনালদোর গোল হলো ১০৭টি।
পিছিয়ে পড়া জার্মানি ছিল বিধ্বংসী রূপে। আক্রমণের পর আক্রমণের মুখে ৩৫ আর ৩৯ মিনিটে দুবার বল বাঁচাতে গিয়ে রুবেন দিয়াস আর রাফায়েল গেরেরো বল ঠেলেন নিজেদেরই জালে। বিরতির পর ৫১ থেকে ৯ মিনিটের মধ্যে জার্মানরা নিজেরা করে দু’গোল। প্রথমটি কাই হাভার্টজের। দ্বিতীয়টি রবিন গোজেন্স। ৬৭ মিনিটে জোতা একটি গোল পরিশোধ করলেও লাভ হয়নি পর্তুগালের। হার মানতেই হয়েছে।
হাঙ্গেরিতে আটকে গেল ফ্রান্স
মৃত্যুকূপের সবচেয়ে দুর্বল দল হাঙ্গেরি। কিন্তু তারা যে শুধু দলের সংখ্যা বাড়াতে আসেনি তার প্রমাণ দিল। পর্তুগালের সঙ্গে পারেনি, কিন্তু ফ্রান্সকে রুখে দেয় তারা। নিজেদের মাঠ পুসকাস অ্যারেনায় প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে আটিলা ফিওলার অসাধারণ গোলে এগিয়ে যায় হাঙ্গেরি। ৬৬ মিনিটে অ্যান্তোইন গ্রুজম্যানের গোলে ড্র করে মান বাঁচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
কিলিয়ান এমবাপের একাধিক গোল মিসের সুযোগে বিরতির আগে হাঙ্গেরিকে এগিয়ে নেন ফিওলা। মধ্যমাঠ থেকে প্রায় একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে গোল করেন। উদযাপনে দর্শকভর্তি গ্যালারির দিকে উন্মত্ত উল্লাসে ছুটে যান এই ডিফেন্ডার। ৬৭ মিনিটে অসাধারণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সমতা ফেরান গ্রিজম্যান। স্বাগতিক গোলরক্ষক হুগো লরিস গোল কিক নেন যা নিজেদেরই ডি বক্সের সামনে পড়ে। দুই ডিফেন্ডারের মাঝে থেকে বল ছিনিয়ে এমবাপে তা বাড়ান বেনজেমার উদ্দেশ্যে। মাঝ থেকে গ্রিজমান সামনে এসে জোরালো শটে নিজের ৩৮তম গোল করেন।