বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অবস্থা অনেকটা ঠা-াই বলা চলে। একদিকে করোনা মহামারী, অন্যদিকে রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতিবাচক অবস্থা মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সুদিন চলছে। বিধানসভায় হারের পর বিজেপি পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুখিয়ে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ প্রতিশোধ ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির কথা চিন্তা করেই পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের সাতটি জেলা নিয়ে কেন্দ্রশাসিত একটি রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গড়ার দাবি তুলেছে বিজেপি।
বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত হয়ে আসছে। তাই তারা উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য দাবি তুলেছেন ‘উত্তরবঙ্গ’ নামে পৃথক একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গড়ার। এ সাতটি জেলা হলো কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং ও মালদহ জেলা।
এ দাবি প্রথম ওঠে ১৪ জুন। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলার সহসভাপতি অলোক চক্রবর্তী একটি বৈঠকের পর ওইদিন বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে নিরাপত্তার অভাব চরমে। ঢালাও অনুপ্রবেশ হচ্ছে। সার্বিক উন্নয়ন হচ্ছে না, পিছিয়ে পড়ছে উত্তরবঙ্গ। তাই আমরা দাবি তুলেছি উত্তরবঙ্গকে একটি রাজ্য হিসেবে বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করার। যাতে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।’ এ লক্ষ্যে বিজেপি শিগগিরই শুরু করছে গণস্বাক্ষর অভিযান। লোকসভার বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই এ দাবি নিয়ে স্মারকলিপি পৌঁছে দেওয়া হবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। বিজেপির আরও অভিযোগ, বাংলাদেশ, নেপালসহ একাধিক দেশ থেকে উত্তরবঙ্গে ঢুকছে দুষ্কৃতকারীরা, এমনকি রোহিঙ্গারাও। তারা ‘সেফ প্যাসেজ’ হিসেবে ব্যবহার করছে উত্তরবঙ্গকে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ শনিবারই বলেছেন, এ ব্যাপারে দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেই। ওদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা বাংলাকে ভাঙতে দেব না। পরাধীন হতে দেব না। যারা বাংলাকে ভাগ করতে চায়, তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’ মমতা প্রশ্ন করে বলেন, ‘উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার মানে কী? এবার কি জম্মু-কাশ্মীরের মতো মুখ বন্ধ করে রাখতে হবে? এটা করা এত সহজ নয় এই বাংলায়। রাজ্য কি অনুমতি দেবে বিজেপিকে বঙ্গভঙ্গে? বিজেপি চাইলেই আমরা জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারকে বিক্রি করতে দেব না। বাংলার মানুষ বিজেপির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’