বরগুনায় ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষে ২ জন গুলিবিদ্ধ

বরগুনায় ভোটকেন্দ্রে স্বতন্ত্র ও নৌকা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার কিরণ মাতুব্বর।

আহত ব্যক্তির নাম টিটু সিকদার। তিনি বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকার ফোরকান সিকদারের ছেলে। একই সময় গুলিবিদ্ধ হয় বাদল (২৪) নামের অন্য এক ব্যক্তি।

ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের আর্শেদ আলী খান চেয়ারম্যান বাড়ির ভোটকেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী ইলিয়াস শরীফ স্বপন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মতিউর রহমান রাজার সমর্থকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাঠিচার্জ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ছুড়ে। অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের প্রচেষ্টায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশের ছোড়া গুলিতে টিটু সিকদার (২৮) নামে এক ব্যক্তি আহত হন। আহত টিটুকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মতিউর রহমান রাজার সমর্থক।

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কিরণ মাতুব্বর জানান, ভোটগ্রহণের ঠিক শেষ মুহূর্তে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শরীফ ইলিয়াস আহমেদ স্বপনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের বাইরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মতিউর রহমান রাজার কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এতে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন।

ওই ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী ইলিয়াস শরিফ স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মতিউর রহমান রাজার দাবি, গুলিবিদ্ধ টিটু তার সমর্থক।

তিনি জানান, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নৌকার প্রার্থী স্বপন তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে চার নম্বর ওয়ার্ডের আর্শেদ আলী খান চেয়ারম্যান বাড়ির ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে ভোট কাটার চেষ্টা করে। এ সময় আমার সমর্থকরা বাধা দিলে নৌকা সমর্থকরা আমাদের ওপর আক্রমণ করে।

এর বাইরে বরগুনার ২৯ ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয়। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল সন্তোষজনক। বেশ কিছু ইউনিয়ন থেকে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার করে ভোট দিতে বাধ্য করা, এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও জাল ভোটের প্রচেষ্টার অভিযোগ ওঠে।

তবে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহীনির সদস্যদের তৎপরতার ফলে সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এর বাইরে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার ও কারচুপির অভিযোগ এনে বরগুনার বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ভোট বর্জন করেন খ.ম.ফাহরিয়ার সংগ্রাম আমিনুল ও বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন তপন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কোথাও সহিংসতার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, আমরা এ পর্যায়ে সবার সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি।