রাজশাহী মহানগরীর কয়েরদাঁড়া এলাকায় ধসে পড়া ভবনটি নির্মাণের জন্য রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদনই নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘অনুমোদন ছাড়াই তৈরি হয়েছিল চারতলা। আরেক তলার কাজ চলছিল। এছাড়া এটি নির্মাণের জন্য খুবই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এটিই ধসে পড়ার কারণ।’
আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঐ ভবনের কোনো অনুমোদনই নেওয়া হয়নি। অনুমোদন ছাড়াই এটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। ঐ এলাকায় আরডিএর নকশা অনুমোদন দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। ধসে পড়ার পর সেখানে আরডিএর লোকজন পরিদর্শন করেছেন। তারা যেটি দেখেছেন তা হলো, এই ভবন নির্মাণে খুবই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল। এ কারণেই এটি ধসে পড়েছে। প্রথমত অনুমোদন ছাড়াই এত বড় একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছিলÑ এটি একটি অপরাধ। আবার এভাবে ভাংরি জাতীয় ইটসহ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ করা আরও বড় অপরাধ।
তবে, এটি নিয়ে তাদের আপাতত কোনো করণীয় নেই জানিয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এই কর্মকর্তা জানান, আমরা এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করব। এভাবে যেন কেউ ভবন তৈরি না করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েরদাঁড়া এলাকা দিয়ে একটি রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ খুব শিগগিরই শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে। এভাবে কোনো রকম একটি ভবন উঠিয়ে রাখতে পারলে জমি অধিগ্রহনের সময় ভালো দাম পাওয়া যাবে এমন আশা নিয়ে ভবনের মালিক নিম্নমানের ইটসহ খুবই কম খরচে ভবনটি তৈরি করছিলেন। কোনোরকম জমি অধিগ্রহণ করা পর্যন্ত টিকে থাকলেই তিনি ভালো টাকা পেয়ে যাওয়ার আশা করছিলেন।
উল্লেখ্য, রবিবার বেলা ৩টার দিকে হঠাৎ করেই রাজশাহী নগরীর কয়েরদাঁড়া এলাকায় চারতলা ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনটিতে কেউ না থাকায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে চাপা পড়েছে কয়েকটি প্রাইভেটকার।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুর রউফ জানান, ভবনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ ফুট। প্রস্থে ছিল ৪০ ফুট। চারতলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল। ওপরে আরেকতলা তোলার জন্য বিম ওঠানো হয়েছিল। অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। এ কারণে ভবনটি ভেঙে পড়েছে।
ভবনটির মালিক ছিলেন আক্তারুজ্জামান বাবলু নামের এক ব্যবসায়ী। প্রায় এক বছর আগে তিনি মারা গেছেন। এখন ভবনের মালিকানায় আছেন তার ছোট ভাই নুরুজ্জামান পিটার। তবে আক্তারুজ্জামান বাবলুর মৃত্যুর পর থেকে ভবনটিতে আর কাজ হয়নি।