শিবচরে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা উন্মুক্ত ছিল

দলীয় প্রতীক ছাড়াই ১৩ ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত

সারা দেশের মধ্যে শুধু মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা উন্মুক্ত রেখে (দলীয় প্রতীক ছাড়া) গত সোমবার নির্বাচন সম্পন্ন হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিজয়ী ১৩ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।

এর আগে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে ভোটগ্রহণ। ১৩ ইউনিয়নের মধ্যে শুধু কাদিরপুর ইউনিয়নে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। বাকি ১২ ইউনিয়নে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

শিবচর উপজেলার প্রথম ধাপে ১৩ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ীরা হলেন কুতুবপুর ইউনিয়নে হাজি মো. আতিকুর রহমান মাদবর, কাদিরপুরে বিএম জাহাঙ্গীর, দ্বিতীয়খ- ইউনিয়নে পুষ্প তালুকদার, শিবচর ইউনিয়নে বাবুল ফকির, পাচ্চর ইউনিয়নে হাজি মো. দেলোয়ার হাওলাদার, মাদবরচর ইউনিয়নে ফজলুল হক মুন্সি, বাঁশকান্দি ইউনিয়নে আসাদুজ্জামান খোকন, ভা-ারিকান্দি ইউনিয়নে কালাম চোকদার, দত্তপাড়া ইউনিয়নে মুরাদ মিয়া, শিরুয়াইল ইউনিয়নে মো. সুরাব উদ্দিন মাতুব্বর, নিলখী ইউনিয়নে মিজান শিকদার, বহেরাতলা উত্তর ইউনিয়নে জাকির হোসেন হায়দার ও বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নে আবদুল বারী উকিল। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বেশ কয়েকজন ভোটার বলেন, আমরা উন্মুক্তভাবে ভোট দিতে চাই, দলীয় প্রতীক না থাকায় ভোটারদের কদর বেড়েছে। প্রত্যেক প্রতিনিধি বাড়ি বাড়ি ভোটারদের কাছে গিয়ে তাদের মতামত নিয়েছেন ও তাদের গুরুত্ব দিয়েছেন।

শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. সেলিম মিয়া জানান, শিবচর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে কোনো দলীয় প্রতীক না দিলেও ১৩টি ইউনিয়নের নির্বাচিত সবাই আওয়ামী লীগ পরিবারের। এর মধ্যে বেশিরভাগ বিজয়ী চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। এ নির্বাচন দেশে মডেল হয়ে থাকবে। দলীয় প্রতীক ছাড়াই আওয়ামী লীগের সব চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের মধ্যে শুধু শিবচরে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখায় এখানে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছড়াছড়ি লক্ষ করা গেছে। জাকের পার্টি, ইসলামী আন্দোলনও একাধিক ইউনিয়নে প্রার্থী দিয়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, আওয়ামী লীগ প্রার্থিতা উন্মুক্ত করায় দলীয় প্রতীক ছাড়া বিপুলসংখ্যক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ১৩ ইউনিয়নের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৭৩, সদস্য পদে ৪১০ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।