বাদীর পরিচয় নিশ্চিতে হাইকোর্টের ৫ নির্দেশনা

ভুয়া অভিযোগের মামলা ও ভুয়া পরোয়ানায় হয়রানি বন্ধে থানা, আদালতে অভিযোগ দায়ের ও মামলা করতে বাদী বা অভিযোগকারীর পরিচয় যথাযথভাবে নিশ্চিতে পাঁচ নির্দেশনা দিয়েছে উচ্চ আদালত।

এক ব্যক্তির  বিরুদ্ধে ‘অস্তিত্বহীন’ বাদীর করা ৪৯টি ফৌজদারি মামলা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৪ জুন রুলসহ সংক্ষিপ্ত আদেশ দেয়।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ আদেশটি বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

সেখানে নির্দেশনায় বলা হয়, এখন থেকে মামলা করতে অভিযোগকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর বা পাসপোর্ট নম্বর লাগবে। এ ছাড়া কোনো বিদেশি নাগরিক মামলা করতে চাইলে তার পাসপোর্ট নম্বর লাগবে।   

হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়েছে- ১) অভিযোগ/এজাহারে অভিযোগকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর প্রয়োজনে পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখ করতে  হবে ২) এজাহারকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে সে ক্ষেত্রে এজাহারকারীকে শনাক্তকারী ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করতে হবে ৩) বিশেষ বাস্তব পরিস্থিতিতে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বর লভ্য (অ্যাভেইলেবল) না হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এজাহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্বীয় বিবেচনায় অন্যান্য যথাযথ পদ্ধতি গ্রহণ করবেন ৪) আদালত কিংবা ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলের ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট না থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী অভিযোগকারীকে শনাক্ত করবেন এবং ৫) অভিযোগকারী প্রবাসী কিংবা বিদেশি নাগরিক হলে সংশ্লিষ্ট দেশের পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখ করতে হবে।

ধর্ষণ, ডাকাতি, মানবপাচার, নারী নির্যাতন, চুরিসহ ৪৯ মামলার বাদী খুঁজতে নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ জুন হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন ভূক্তভোগী রাজধানীর শান্তিনগরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী একরামুল আহসান কাঞ্চন।

আবেদনে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকার পুলিশ কমিশনারসহ ৪০ জনকে বিবাদী করা হয়।

গত ১৪ জুন হাইকোর্ট এক আদেশে এসব মামলার বাদী কারা তা খুঁজতে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলে। একই সঙ্গে রিটকারীর বিরুদ্ধে ৪৯ মামলার বাদীকে কেন খুঁজে বের করা হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- এ মর্মে রুল জারি করে হাইকোর্ট।

ভার্চুয়ালি রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. জয়নুল আবেদীন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এমাদুল হক বসির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

রিটকারীর আইনজীবী এমাদুল হক বসির জানান, মারামারির একটি মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট রাজধানীর সূত্রাপুর থানা পুলিশ একরামুল আহসান কাঞ্চনকে প্রথম গ্রেপ্তার করে। দুই বছর তিন মাস কারাগারে থাকার পর ২০১৫ সালের মে মাসে জামিনে মুক্তি পান তিনি। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ১৭টি মামলা হয়। একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ৪৯তম মামলাটি করা হয় গত বছরের অক্টোবরে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা যুগ্ম জজ আদালতে করা সেই মামলার বাদীর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

আইনজীবী আরো জানান, ৪৯ মামলার মধ্যে ৩৬টি মামলায় একরামুল আহসান কাঞ্চন অব্যাহতি কিংবা খালাস পেয়েছেন। অপর ১৩টি মামলায় আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন তিনি।