দেশের সব অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেমস ও লাইকির মতো গেমস, অ্যাপস অবিলম্বে নিষিদ্ধ, বন্ধ ও প্রত্যাহারের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্টের দুই আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও মোহাম্মদ কাওছার এ আবেদন করেন। মানবাধিকার সংগঠন ‘ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন’র পক্ষে এসব গেমস ও অ্যাপসের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে জনস্বার্থে এ রিট করা হয়।
আবেদনের বরাতে ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, এসব এ্যাপস ও গেমসের আড়ালে শত শত কোটি টাকা অর্থ পাচার হচ্ছে। এসব লেনদেনে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিবিদ, শিক্ষাবিদ ও আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে তরুণদের জন্য ক্ষতিকর এসব গেমস ও এ্যাপস্ বন্ধে বিটিআরসিকে (বাংলাদেশ টেলি যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা) নিয়মিত সুপারিশ করার আদেশ দিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, সব মোবাইল অপারেটর, বিকাশ ও নগদকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, পাবজি এবং ফ্রি ফায়ার’র মতো গেমসে বাংলাদেশের যুব সমাজ এবং শিশু-কিশোররা ব্যাপকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে সামাজিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি বিনষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়ে পড়ছে মেধাহীন। এসব গেমস যেন যুব সমাজকে সহিংসতা প্রশিক্ষণের এক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। অন্যদিকে টিকটক, লাইকি অ্যাপস ব্যবহার করে দেশের শিশু কিশোর এবং যুব সমাজ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে। এর প্রভাবে সারাদেশে কিশোর গ্যাং কালচার তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া টিকটক ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন গোপনীয় জায়গায় পুল পার্টির নামে অনৈতিক বিনোদন, যৌন কার্যক্রমে লিপ্ত হচ্ছে। সম্প্রতি নারীপাচারের ঘটনা এবং বাংলাদেশ থেকে দেশের বাইরে অর্থপাচারের ঘটনায়ও টিকটক, লাইকি এবং বিগো লাইভ’র মাধ্যমে চলছে যেটা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।