অনলাইন কেনাকাটায় এখন থেকে পণ্য বুঝে পাওয়ার পর সব ইকমার্সের টাকা পরিশোধ করবে গ্রাহক। বৃহস্পতিবার এক বৈঠকের পর এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
তবে এ সিদ্ধান্ত তাদের জন্য ‘শাপেবর’ হয়েছে বলে জানিয়েছে ই-ভ্যালি।
ই-ভ্যালির ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি পরিদর্শন প্রতিবেদন নিয়ে বৃহস্পতিবার আলোচনা হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। ওই বৈঠকে ইক্যাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও বেসিসের প্রতিনিধি ছিলেন।
ই-ভ্যালি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা বিপুল ছাড় দিয়ে লোকসানে পণ্য বিক্রি করছে। যে কারণে দেশের ই-কমার্স ব্যবসায় অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ভালো ও সৎ ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং ভবিষ্যতে এ খাতের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।
বৈঠকের পর দেশ রূপান্তরকে তাদের মতামত জানায় ই-ভ্যালি।
‘আপনাদের দেনা ৪০৩ কোটি টাকা, নতুন নিয়মে আপনাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে কি না’ জানতে চাইলে ই-ভ্যালির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আরিফ আর হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অবশ্যই পড়বে না। আমরা তো সেলারদের কাছ থেকে ক্রেডিটে নেই না, প্রোডাক্ট নেই। এই আইন আমাদের জন্য শাপেবর হয়েছে। সুতরাং তারাই হারিয়ে যাবে, যারা নতুন মার্কেটে আসছে ইকমার্স নিয়ে’।
দেশ রূপান্তরকে ই-ভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘আমরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আমাদের সব কার্যক্রম চলমান থাকবে। আমরা এখানে ব্যবসা করতে এসেছি। সরকার যেভাবে আমাদের ব্যবসা করতে বলবে, আমরাও সেভাবেই ব্যবসা করব’।
‘যেসব ক্রেতা ইতিমধ্যে অগ্রীম অর্থ পরিশোধ করছেন, তাদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন’ এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রাহকের প্রতি কমিটেড। আমরা ই-ভ্যালির নিজস্ব নীতিমালা অনুযয়ী তাদের পণ্য বুঝিয়ে দেব। এ নিয়ে গ্রাহকের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই’।
‘আপনাদের তারল্য সংকট আছে, এমন অবস্থায় আপনারা অগ্রীম টাকা না পেলে কীভাবে বাণিজ্য করবেন’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তো মূলত পণ্যভিত্তিক ব্যবসা করি। সাপ্লাইয়ারদের থেকে পণ্য নিয়ে ক্রেতাকে দিই। সুতরাং এখানে তারল্য সংকট কোনো বিষয় না’।
নতুন নিয়মের কারণে ইভ্যালি আগের মতো ছাড়ে পণ্য কেনার অফার নিয়ে আসবে কি না জানতে চাইলে রাসেল বলেন, ‘এখন তো সরকার কেবল একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করুক। সেখানে কী বলে তা দেখার পরেই আমরা সব সিদ্ধান্ত নেব। আর এটা তো একটা বিজনেস। হুট করে তো কিছু বলা যায় না। আমরা বসে সব কিছু পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত আপনাদের ও গ্রাহকদের জানিয়ে দেব’।
রাসেল আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো ই-কমার্স নীতিমালা নেই, যেটির জন্য ই-ভ্যালি নিজেও দীর্ঘদিন অ্যাডভোকেসি করে আসছে। আজকের এই সিদ্ধান্ত সেই নীতিমালা প্রণয়নের প্রথম ধাপ বলেই আমরা বিশ্বাস করি। এর ফলে গ্রাহক, মার্চেন্ট, মার্কেটপ্লেসসহ পুরো ইকো-সিস্টেমই উপকৃত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। যেকোনো রেগুলেটরি থেকে আসা সিদ্ধান্ত শুধু ই-ভ্যালি না বরং সবার জন্যই প্রযোজ্য হবে। আমরা এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই’।