এশিয়ান কাপের কঠিন গ্রুপে সাবিনারা

এশিয়া অঞ্চলে নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপের মূলপর্ব ২০২২-এ আয়োজিত হবে ভারতে। ১২ দলের এই টুর্নামেন্টে জায়গা পেতে এবার লড়বে বাংলাদেশও। সেপ্টেম্বরে বাছাইপর্বের জন্য ড্র হয়েছে গতকাল। জি গ্রুপে সাবিনা খাতুনদের দুই প্রতিপক্ষ শক্তিশালী জর্ডান ও ইরান। ম্যাচগুলো আয়োজন করবে বাংলাদেশ। আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি মূলপর্বের আয়োজক ভারত ছাড়াও গত আসরের চ্যাম্পিয়ন জাপান, রানার্সআপ অস্ট্রেলিয়া ও তৃতীয় চীন সরাসরি অংশ নেবে। বাছাইয়ের আট গ্রুপের সেরা আট দল সুযোগ পাবে চূড়ান্তপর্বে। মর্যাদার এই আসরে অংশ নেবে এশিয়ার ২৮টি দেশ।

অতীতে একবারই বাংলাদেশ মহিলা এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব খেলেছিল। ২০১৪ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে (২০১৩ সালে) স্বাগতিক হিসেবে খেললেও তিনটি ম্যাচেই হেরে যায় বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের কাছে ৯-০, ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ এবং ইরানের কাছে হারতে হয়েছিল ২-০ গোলে। ২০১৮-এর আসরের বাছাইপর্বই খেলা হয়নি বাংলাদেশের। গত কয়েক বছরে বয়সভিত্তিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে আলো ছড়ালেও সিনিয়র জাতীয় দল হিসেবে সেভাবে কোনো সাফল্য নেই বাংলাদেশের। দক্ষিণ এশিয়া পর্যায়েও ভারত ও নেপালের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। ভারত সর্বমোট আটবার মূলপর্বে খেলে দু’বার রানার্সআপ ও একবার তৃতীয় হয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন গ্রুপ প্রতিপক্ষদের তুলনায় নিজের দলকে পিছিয়ে রাখলেও ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মূলপর্ব খেলার বড় স্বপ্নই দেখছেন। ২০১৯ সালের মার্চে মহিলা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলার পর আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হয়নি সাবিনা খাতুনদের। দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফেরার উপলক্ষটা স্মরণীয় করতে চান কোচ, ‘২০১৯-র মার্চে নেপালে সাফের সেমিফাইনাল খেলার পর আর ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি আমাদের মেয়েদের। তবে ঘরোয়া লিগ চলমান থাকায় ওরা খেলার মধ্যে আছে। জুলাইয়ে লিগ শেষ হয়ে যাওয়ার পর একটা পরিকল্পনা করে আমাদের বাছাইপর্বের প্রস্তুতি নিতে হবে। গ্রুপের দুটি দলই আমাদের চেয়ে শক্তিশালী। তবে আমরা যদি ভালো প্রস্তুতি নিতে পারি, তাদের পেছনে ফেলাটা একেবারে অসম্ভব নয়। বিদেশি দলের বিপক্ষে একাধিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারলে ভালো হবে। আশা করছি বাফুফে দলের ভালোর জন্য সব ব্যবস্থাই নেবে।’ বাছাইয়ের সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।