করোনার কারণে মাঝের একটি বছর হারিয়েছে ক্রিকেট ক্যালেন্ডার থেকে। কিন্তু হারায়নি আবাহনী। ফেভারিটরা আবির্ভূত পুরনো রূপেই। তাই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবারও শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট আবাহনীর মাথায়। মোট ৪৩ আসরে আবাহনী ২১তম বার চ্যাম্পিয়ন হলো। আর ২০১৩-১৪ থেকে ঢাকা লিগ লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর ৭ আসরে চতুর্থবার শিরোপা উঠল আবাহনীর ঘরে। বিশ্বকাপ টি-২০ কথা মাথায় রেখে এবং সময় স্বল্পতার কারণে এবার লিগটি হয়েছিল টি-২০ ফরম্যাটে। ফরম্যাট বদলালেও চ্যাম্পিয়ন বদলায়নি। অলিখিত ফাইনাল হয়ে ওঠা ম্যাচে গতকাল মিরপুরে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৮ রানে হারিয়ে শিরোপা ধরে রেখেছে আবাহনী। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৫০ তোলে আবাহনী। জবাবে প্রাইম ব্যাংক ৯ উইকেটে ১৪২ রানে থামে। একমাত্র ক্লাব হিসেবে তিনবার হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হলো আবাহনী।
১৫ ম্যাচ থেকে ২২ পয়েন্ট নিয়ে সমান অবস্থায় শেষ ম্যাচে নামে দু’দল। কাজেই ফাইনাল হয়ে ওঠে ম্যাচটি। শক্তির বিচারে দু’দলই প্রায় সমান। এক দল ব্যাটিংয়ে শক্তিধর তো অন্য দল বোলিংয়ে। জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানে ভরপুর আবাহনীর ব্যাটিংলাইন। ইনজুরির কারণে শুধু মুশফিকুর রহিম অনুপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া লিটন, শান্ত, মোসাদ্দেক, আফিফ, সাইফউদ্দিন আছেন। ওদিকে প্রাইম ব্যাংকের বোলিং লাইনে যেন জাতীয় দল মোস্তাফিজুর, শরিফুল, রুবেল হোসেন ও নাঈম হাসান। তবুও শক্তির তারতম্যে নয়, ম্যাঠের খেলাতেই দুই দলের পার্থক্য হয়ে গেল। আসল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে একটি জুটি। মাত্র ৩১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোসাদ্দেক হোসেনের ৭০ রানের জুটিতেই ম্যাচ আবাহনীর দিকে ঝুঁকে পড়ে। শান্ত ৪০ বলে ২ ছক্কা ও ৩ চারে ৪৫ করেন। মোসাদ্দেক ৩৯ বলে ১টি করে ছক্কা ও চারে করেন ৪০। এর আগে লিটন হাত খুলতে গিয়েও পারেননি। নাহিদুলকে পরপর সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে ছক্কা মারার পরের বলেই ক্যাচ আউট হন। ৭ বলে ১২ রান করা আফিফ ভালো শুরু পেয়েও শরিফুলের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন। ৪০ রান করা মোসাদ্দেক যখন রুবেল হোসেনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন আবাহনী ১৯তম ওভারে করেছে মাত্র ১৩০। শেষ দিকে সাইফউদ্দিনের ১৩ বলে ২ ছক্কায় ২১ রানে ক্যামিও দলটিকে ৭ উইকেটে ১৫০-এ পৌঁছে দেয়।
আবাহনীর মতো জুটি গড়তে পারেনি প্রাইম ব্যাংক। প্রথম ওভার থেকে ১০ ওভার পর্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে ৫ উইকেট হারিয়ে তারা করে ৬৬। একপ্রান্ত আগলে ৪১ করা রুবেল মিয়া প্রাইম ব্যাংককে একেবারে হারিয়ে যেতে দেননি। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ অলক কাপালির দিকেই তাকাতে হয় প্রাইম ব্যাংককে। এক ম্যাচ আগেই গাজী গ্রুপের বিপক্ষে অপরাজিত ২১ করে ১ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জেতান কাপালি। শেষ ওভারে ৩ বলে নিয়েছেন ১১ রান। এ ম্যাচেও দলকে জয়ের পথে নিয়েছিলেন প্রায়। কিন্তু শেষটা হলো না। ১৭ বলে ৩ ছক্কা ও ২ চারে ৩৪ করেও হতাশ হতে হলো অভিজ্ঞ এ অলরাউন্ডারকে। হেরে গেলেন তরুণ শহিদুল ইসলামের কাছে। শেষ ওভারের স্পেশালিস্ট হয়ে উঠেছেন যেন শহিদুল। গত বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপেও জেমকন খুলনাকে শেষ ওভারে জিতিয়েছেন। ওই ফাইনালে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৬ রান। শহিদুল সেদিনও সফল, গতকালও। সেই সঙ্গে সফলতর আবাহনীও। তবে ম্যাচসেরা হয়েছেন সাইফউদ্দিন। ১৩ বলে ২১ রানের ক্যামিওর পর বল হাতে ৩৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট।
এদিন প্রথম ম্যাচে সুপার লিগে প্রথম জয় তুলেছে মোহামেডান। প্রাইম দোলেশ্বরকে বৃষ্টি আইনে ২৫ রানে হারিয়েছে তারা। তবুও নিজেদের অবস্থান বদলাতে পারেনি। লিগের সবশেষ আসরেও সুপার লিগের ষষ্ঠ দল ছিল মোহামেডান। এবারও তাদের অবস্থান একই। আগে ব্যাট করে ১৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১০৩ রান করে মোহামেডান। দোলেশ্বরের সামনে ১৩ ওভারে ১০৭ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। জবাবে রুয়েল মিয়ার ২১ রানে ৫ ও ইয়াসিন আরাফাতের ১১ রানে ৪ উইকেটে দোলেশ^র ১১.৪ ওভারে ৮১ রানে অলআউট হয়। রুয়েলের এটি ক্যারিয়ারসেরা টি-টোয়েন্টি স্পেল এবং এই ফরম্যাটে প্রথম ৫ উইকেট।