বিনোদন সাইট স্টারমেকার ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করে ক্যাসিনো কারবারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
তারা হলেন- রাজধানীর তুরাগ এলাকার বাসিন্দা রওশন আরা (৩৪) ও রাজু আহম্মেদ (৩৫)। তাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে আয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ এনেছে সিআইডি।
মঙ্গলবার রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তারের পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে।
সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান জানান, এই চক্রটি অভিনব পন্থায় স্টারমেকার বিনোদন সাইট ব্যবহার করে। মানুষ সুস্থ বিনোদনের আশায় সেখানে সংগীত চর্চা ও আড্ডা দেয়। আড্ডার আড়ালে তারা ব্যবহারকারীদের জুয়ার দিকে আকর্ষণ করে। তারা ভার্চুয়াল আইডিতে নিয়ে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে বিট কয়েন বিক্রি করেন। আসামিদের কয়েন সেলার আইডিতে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৫ লাখ কয়েন বিক্রি হয়। যার মূল্য এক লাখ ডলারের বেশি। এ জন্য তারা ফেইসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলে বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবহারকারী সংগ্রহ করে। তারা বিট কয়েন বিক্রির টাকা বিকাশের মাধ্যমে নেয়।
তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকে কেনা বিট কয়েন ভাঙিয়ে দেশ থেকে টাকা সংগ্রহ করার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও লোকজন নেশায় আসক্ত হয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে কয়েন কিনে অনলাইন জুয়ায় হেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই ভার্চুয়াল কয়েনই স্টারমেকার লাইট/স্টারমেকার অ্যাপসের চালিকা শক্তি। রওশন আরা ও রাজু স্টার মেকারের বাংলাদেশি কয়েন এজেন্সি হয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোভনীয় অফার দিয়ে আসছিল। তারা এসব কয়েন বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।
সিআইডির অভিযানে আসামীদের কাছ থেকে বিট কয়েন বিক্রির কাজে ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস, ৫টি মোবাইল, ভার্চুয়াল কয়েন বিক্রির রেজিস্ট্রার, ব্যাংকের চেক বই, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও ৩০টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের এজেন্ট আইডিতে প্রায় ৬ লাখ কয়েক পাওয়া গেছে। যা তারা আগামী দুই দিনেই বিক্রি করত।
গ্রেপ্তার রওশন আরার বাবার নাম আব্দুল মালেক। তার স্বামীর নাম গোলাম মোস্তফা। সে টঙ্গাইল মির্জাপুর থানার মইষামোরা গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার রাজুর বাবার নাম শওকত আহমেদ। তিনি ঝিনাইদহ পৌরসভার ইন্দিরা সড়কের বাসিন্দা।