মগডাল থেকে ধপ করে পড়ল ফ্রান্স

৪৪ ম্যাচে ১৭ গোল নিয়ে ইউরোতে এসেছিলেন ২০১৮ বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান ফুটবলার এমবাপে। বিশ্বকাপের পর তিন মৌসুমে পিএসজির হয়ে ১২৭ ম্যাচে ১১১ গোলদাতার ওপর প্রত্যাশা ছিল পাহাড়সমান। কিন্তু গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে বেনজেমা, গ্রিজমানরা গোল করলেও হাত খালি ছিল কিলিয়ান এমবাপের। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারের শেষ শটেও গোল করতে পারলেন না। ৫-৪ গোলে শেষ ১৬-তেই শেষ হলো বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন, গত ইউরোর রানার্সআপ ফ্রান্সের ইউরো মিশন। ফ্রান্সের বিখ্যাত পত্রিকা লা ইকুইপের শিরোনামটায় সব কিছু প্রকাশিত উঁচু থেকে পতন।

কথায় আছে মর্নিং শোজ দ্য ডে অর্থাৎ সকাল দেখলেই বোঝা যায় দিনটা কেমন যাবে। সোমবার শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে ৩-১ থেকে ৩-৩ হয়ে তারপর ৫-৩ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে স্পেন জয় পায়। আধাঘণ্টার মধ্যে বুখারেস্টে শুরু হওয়া ম্যাচটিও তেমনই রোমাঞ্চ ছড়াল। ৮০ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে এগিয়ে যাওয়া ফ্রান্স শেষ ৯ মিনিটে দুই গোল খেল। এরপর টাইব্রেকারে গিয়ে হার!

বুখারেস্টে সুইজারল্যান্ডই এগিয়ে গিয়েছিল প্রথমে। ১৪ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ক্রস করেছিলেন স্টিভেন জুবের। লাফিয়ে উঠে হেডে গোল করে সুইসদের এগিয়ে দেন জারিস সেফেরোভিচ। ৫৪ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ানোর দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল সুইজারল্যান্ড। কিন্তু রিকার্ডো রদ্রিগেজের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন ফ্রান্স গোলকিপার হুগো লরিস। এই গোলটা হলে খেলার চেহারা পাল্টে যেতে পারত। তিন মিনিটের মধ্য উল্টো দুই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে তারা। ৫৬ মিনিটে পগবার দারুণ এক পাস থেকে এমবাপের শট পোস্টের গা ঘেঁষে বাইরে যায়। পরের মিনিটেই চতুর এমবাপের ব্যাকহিল থেকে দারুণ শটে সমতা ফেরান বেনজেমা। রিস্টার্ট থেকে বক্সের ভেতর গ্রিজমানের উঁচু করা ক্রসে হেডে টুর্নামেন্টে তার চতুর্থ গোল করেন বেনজেমা। ৩১ গোল নিয়ে ছুঁয়ে ফেলেন কিংবদন্তির জিনেদিন জিদানকে। ৭৫ মিনিটে পল পগবা দারুণ এক শটে গোল করলে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে ফ্রান্স। কিন্তু নাটকের তখনো বাকি। যেমন স্পেনের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া করেছিল, সুইজারল্যান্ডও তাই করে। ৮১ মিনিটে বদলি এমবাবুর ক্রসে হেড করে ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোল করেন জারিস সেফেরোভিচ। আর ৯০ মিনিটে ফ্রান্সকে বিস্মিত করে দিয়ে সমতা ফেরান আরেক বদলি মারিও গাভরানোভিচ।

অতিরিক্ত সময়েও দারুণ এক গোলের সুযোগ মিস করেন এমবাপে। ১১০ মিনিটে ডি-বক্সে দারুণ পজিশনে বল পেয়েও পাশের জালে মারেন তিনি। টাইব্রেকে ৫ শটের সবগুলো জালে জড়ায় সুইসজারল্যান্ড। ফ্রান্সের হয়ে পল পগবা, অলিভার জিরু, মার্কাস থুরাম, কিমপেম্বে গোল করার পর পঞ্চম গোল এমবাপে করলেই সাডেন ডেথে যায় টাইব্রেকার। কিন্তু তার বাম পোস্টের দিকে মারা শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান সুইস গোলকিপার ইয়ান সমার।

টাইব্রেকার মিস করলেও এমবাপের প্রতি ক্ষোভ নেই ফরাসি দলের কারও। কোচ দেশম বলেছেন, ‘কিলিয়ান গোল করতে না পারলেও এবার আমাদের আক্রমণে চূড়ান্ত ভূমিকা ছিল তার। শেষ পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্বও সে নিজে নিয়েছে। তার প্রতি কারও ক্ষোভ নেই। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, এই দলের শক্তির জায়গা আমরা জানি। একসঙ্গে অসাধারণ সব মুহূর্ত আমাদের এসেছে। আজকে অবশ্যই কষ্ট পাচ্ছি, অনেক হতাশা আছে। তবে গোটা দল ড্রেসিং রুমে ঐক্যবদ্ধ আছে। কেউ বলছে না তুমি এই ভুল করেছো, তুমি ওই ভুল।’ কিলিয়ানও জানে নিজের দায়িত্ব।’ সুইজারল্যান্ডের গোলকিপার সমের দলকে নিয়ে গর্বিত।

৬৭ বছর পর...

৬৭ বছর পর বড় কোনো টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল সুইজারল্যান্ড। সেই ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে শেষ আটে খেলেছিল সুইসরা। এমন মুহূর্ত এনে দেওয়ার পেছনে সমারের অবধানও কম নয়। গর্ব হচ্ছে তার। ‘এটি দারুণ এক সন্ধ্যা। দলকে নিয়ে আমি খুব গর্বিত। যখন ৩-১ ছিল, কেউ হয়তো আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখেনি। তবে ম্যাচের আগে আমরা বলেছিলাম শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব যাই হোক’ বলছিলেন বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখে ক্লাব ফুটবল খেলা এই গোলকিপার।