মুসলিম রাইটস ফাউন্ডেশনের অফিস সেক্রেটারি মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জান্নাতুন নাহারের পাঠানো একটি আইনি নোটিশ (লিগ্যাল নোটিশ) দেশ রূপান্তরের হাতে এসে পৌঁছেছে। লিগ্যাল নোটিশে গত ১৯ জুন দেশ রূপান্তর অনলাইনে প্রকাশিত চিত্রনায়িকা পরীমণি সংক্রান্ত একটি সংবাদ নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আপত্তিগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দেখেছি। এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করছি।
প্রথমত, গত ১৯ জুন প্রকাশিত দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত খবরটির শিরোনাম ছিল ‘আমার পিরিয়ড হয়েছে, সাথে জ্বরও: পরীমণি’। এ সংবাদে পরীমণির প্রাইভেসি লঙ্ঘন করা হয়েছে এমন অভিযোগ নোটিশে উত্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হলো, এই সংবাদটি গ্রহণ করা হয়েছে চিত্রনায়িকা পরীমণির দেওয়া একটি পাবলিকলি প্রচারিত ফেইসবুক পোস্ট থেকে। পরীমণির অসংখ্য ফলোয়ার রয়েছেন। তিনি কোনো পোস্ট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা তা দেখতে পান এবং তাতে প্রতিক্রিয়া জানান ও মন্তব্য করেন।
পরীমণিকে নিয়ে সেই সময় চলমান ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ফেইসবুকে ওই পোস্ট দেন। তখন এর সংবাদমূল্য ছিল বলে আমরা মনে করি।
এখানে উল্লেখ্য, সংবাদটি প্রকাশের আগে ও পরে পরীমণির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের কথা হয়। সংবাদটি যেহেতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে গ্রহণ করা হয়েছে ফলে এখানে প্রাইভেসি লঙ্ঘনের সুযোগ নেই। ব্যক্তি নিজেই যখন নিজের বিষয় জনসম্মুখে জানান তখন সেখানে প্রাইভেসির প্রশ্ন আসে না।
দ্বিতীয়ত, প্রশ্ন উঠেছে আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় এমন ‘স্পর্শকাতর’ সংবাদ প্রকাশ করার নৈতিক ভিত্তি কতটুকু? এর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বা সুড়সুড়ি উৎপাদনের গোপন ইচ্ছা ছিল কি না সে বিষয়েও নোটিশে প্রশ্ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হলো, নারীদের মাসিকচক্র বা পিরিয়ড প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। পুরুষশাসিত সমাজে একে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। যে কারণে নারীরা আজও পিছিয়ে আছে। নিজের শারীরিক এ বিষয়টির কথা তারা মুখ ফুটে বলতে পারে না। এর ফলে অনেককেই অসুস্থ হয়ে পড়তে হয়। তবে ধীরে ধীরে নারীরা এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করে আসছে। সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। নারী তারকাদের নিয়ে এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশকে বহু দেশেই স্বাভাবিকভাবে দেখা হয়। তবে আমাদের সমাজে পুরুষতান্ত্রিকতার চাপে পড়ে বেশির ভাগ নারী তাদের মাসিকচক্র নিয়ে কথা বলতে পারেন না। তবে এখন টেলিভিশনে প্রচারিত বিভিন্ন দেশি বিজ্ঞাপনেও নারীর মাসিকচক্র নিয়ে জড়তা ভাঙার বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। মূলধারার টেলিভিশন, সংবাদপত্রসহ নানা গণমাধ্যমে স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপন নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে নিয়ে সংবাদটি আমরা প্রকাশ করি। পিরিয়ড বা মাসিকচক্র নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না মর্মে ইতিপূর্বে আদালত বা অন্য কোনো সর্বমান্য সংস্থা থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা বা বিধিনিষেধ দেওয়া হয়নি।
আমাদের সংবাদে যে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না তা সংবাদটি পাঠ করলে এবং এর সঙ্গে যুক্ত ছবি পর্যালোচনাতেই বুঝতে পারা যায়। পরীমণিকে নিয়ে চলমান ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কেবল।
এখানে উল্লেখ্য, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানেরই আলাদা সম্পাদনা নীতিমালা থাকে। আমরাও তা মেনে সংবাদ প্রকাশে সচেষ্ট থাকি।
সংবাদটি নিয়ে পাঠক সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ায় তা দ্রুতই সরিয়ে নেয়া হয়েছে। যেহেতু পাঠককেই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও সম্মান দিয়ে থাকি, সে ক্ষেত্রে এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে অবশ্যই আমরা সতর্কতা অবলম্বন করব। সংবাদটি কারও অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে থাকলে সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
পরিশেষে বলতে চাই, দৈনিক দেশ রূপান্তর সব সময় সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়। দৈনিক দেশ রূপান্তর দায়িত্বশীলদের দৈনিক, ভবিষ্যতেও আমরা সংবাদ প্রকাশে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেব।