নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া সত্যজিৎ রায়ের চার গল্পের অ্যাডাপ্টেশন দেখার ইচ্ছাই ছিল না তসলিমা নাসরিনের। কিন্তু ‘আঁতেলদের’ মুখে নিন্দা শুনে ‘রে’ দেখা থেকে নিজেকে সামলাতে পারেননি তিনি।
এরপর ফেইসবুকে পরিচালক সৃজিত মুখার্জির প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন। কিন্তু পরের পোস্টেই রাফিয়াৎ রশীদ মিথিলার স্বামীকে ‘স্মার্ট’ বলায় আফসোসের সুরে শোনা গেল!
অবশ্য সৃজিতের কাঁধে সমস্ত দায় চাপাতে রাজি হননি তসলিমা। প্রযোজক বা প্রযোজনা সংস্থার ওপরও তোপ দাগলেন নির্বাসিত লেখিকা।
মূলত নতুন ছবির মহরতে পূজা ও পৌত্তলিকতায় বিশ্বাস দেখে ক্ষুব্ধ তসলিমা।
তিনি লেখেন, “কাল রাতে সৃজিত মুখার্জির ‘ফরগেট মি নট’ দেখে তাকে চূড়ান্ত স্মার্ট বলে রায় দিয়েছি, স্মার্ট মানেই তো আমার চোখে লৌকিকে বিশ্বাসী, অলৌকিকে নয়। কিন্তু বললাম না বার বার আমি হোঁচট খাই!”
‘রে’ দেখার পরে তসলিমার মনে হয়, তুখোড় শিল্পীর সমন্বয়েই সত্যজিৎ রায়ের এমন আধুনিকীকরণ সম্ভব হয়েছে। তার দাবি, কয়েক দশক পুরোনো গল্পের এমন অবিশ্বাস্য আধুনিকীকরণ করতে সাহস তো দরকার-ই। তার সঙ্গে দরকার কল্পনাশক্তি ও শিল্পবোধের। ছক ভাঙা সোজা ব্যাপার নয়। অভিষেক চৌবে ও ভাসান বালা পরিচালিত বাকি দুটি ছবির প্রশংসা করে তসলিমা লেখেন, “আমাদের সৃজিত মুখার্জি যত ছবি বানিয়েছেন, মনে তো হচ্ছে তার এ দুটো সবার সেরা।”
তসলিমার এই পোস্টটি নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ারও করেন সৃজিত।
কিন্তু নতুন ছবির শুট শুরু করার আগে ঠাকুর দেবতার পূজা মেনে নিতে পারেননি লেখিকা। তার আশা ছিল, সৃজিতের মতো ‘স্মার্ট’ পরিচালক আচার অনুষ্ঠানে বিশ্বাসী নন। কিন্তু তাঁর ভুল ভাঙে ফেইসবুক পোস্ট দেখে। সৃজিত মঙ্গলবার ‘এক্স ইক্যুয়ালস টু প্রেম’-এর মহরতের ছবি দিয়েছিলেন।
সেই ছবি দেখে তসলিমা লিখলেন, “চোখে পড়লো তার একখানা ফেইসবুক পোস্ট, তার নতুন ছবির মহরতে ভগবানের মূর্তি, আর তার পাদদেশে কলা, নারকেল, ফুল টুলের পুজো।”
তসলিমা এও স্বীকার করেছেন, খোদায় বিশ্বাসীরাও প্রতিভাবান হতে পারেন। তবে শুধু সৃজিত নয়, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানেরও সমালোচনা করেছেন ‘ফরাসি প্রেমিক’ উপন্যাসের লেখক।
এবারই প্রথম নয়, এর আগেও সৃজিতের সিনেমা নিয়ে মতামত দিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। বিশেষ করে 'গুমনামি' নিয়ে তার সমালোচনা ছিল তীব্র।