স্পেনের সামনে ভয়ংকর সুইজারল্যান্ড

ধারে-ভারে দু’দলের কোনো তুলনা চলে না। স্পেন একবার বিশ্বকাপ জিতেছে। তিনবার ইউরো। অন্যদিকে বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের সেরা সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনালে সীমাবদ্ধ। ইউরো তো জেতা দূরের কথা আগে কোনোদিন সেমিও খেলতে পারেনি। অর্জনের নিরিখে পরস্পরের বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে থাকা এমন দুটি দল সেন্ট পিটার্সবার্গের গাজপ্রম অ্যারেনাতে ইউরো ২০২০-এর প্রথম কোয়ার্টারে খেলতে নামছে।

কে জিতবে? এর সহজ উত্তর হওয়া উচিত ছিল স্পেন। ছিল, কিন্তু এখন আর নেই। ইউরোর ‘সুপার মানডের’ পর সুইসরা সহজে স্প্যানিশদের ছেড়ে দেবে বলে মনে হয় না। তা সে ২২ ম্যাচের মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পেন যতই ১৬-১-এ এগিয়ে থাকুক না কেনো

‘সুপার মানডের’ প্রসঙ্গে ফেরা যাক। গ্যারি লিনেকারের মতো কিংবদন্তিও মনে করেন সেদিনের (২৮ জুন) মতো মায়াবী রাত ফুটবলে দ্বিতীয়বার আসেনি। সেদিন বুখারেস্টে ফ্রান্স খেলেছিল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। একটা অসম লড়াইকে সমতায় বদলে দিয়েছিল সুইসরা। ম্যাচের পরতে পরতে ছিল উত্তেজনা। দিদিয়ের দেশমের দল প্রথমার্ধে ০-১ পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে চালকের আসনে বসে পড়ে করিম বেনেজেমা ও পল পগবাদের তিন দুরন্ত গোলে। কিন্তু এরপর মহানাটক। দুই সুইস ফুটবলার জারিস সেফেরোভিচ এবং মারিয়ো গ্যাভ্রানোভিচ গোল করে ম্যাচকে নিয়ে গিয়েছিলেন অতিরিক্ত সময়ে। তারপর টাইব্রেকে কী হয়েছে তা দুনিয়া জানে। অন্য ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া প্রথমে এগিয়ে যায়। এরপর পে-ুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচ রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায় ৩-৩ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। আলভারো মোরাতারা আর প্রতিপক্ষকে সুযোগ দেননি। এমনভাবেই ম্যাচটা শেষ করেছেন যে স্পেন কোচ লুইস এনরিক বলতে বাধ্য হয়েছেন, ‘ফুটবলার ও কোচ হিসেবে প্রচুর স্মরণীয় ম্যাচে সাক্ষী থেকেছি। কিন্তু সোমবার রাতের ম্যাচে সমস্ত মুহূর্তের কোলাজ উপহার হয়ে ফিরে এসেছে। বহুদিন মনে থাকবে। এখনো পর্যন্ত এটাই আমার জীবনের সেরা ম্যাচ।’

এমন দুটি অবিশ্বাস্য ম্যাচ খেলে আসা দলের কোয়ার্টার ফাইনাল কেমন হতে পারে এবার আন্দাজ করুন। দোহাই আপনাদের, পরিসংখ্যান মাথায় রাখবেন না। যে দল ফ্রান্সকে বিদায় করতে পারে তারা আর যাই হোক স্পেনের বিপক্ষে আন্ডারডগ নয়। অন্যদিকে এটাও মনে রাখুন যে দলের বারপোস্টের নিচে ক্যাসিয়াসের উত্তরসূরিরা দাঁড়ান, মধ্যমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেন বুসকেতস, পেদ্রি, মোরেনোরা, আক্রমণে মোরাতার সঙ্গে সারাবিয়ারাও গোল করে ফেলতে পারেন, নিজেদের দিনে সব হিসাব উল্টে দিতে পারেন তারা।