পথচারীকে কান ধরিয়ে ছবি ভাইরাল করলেন ইউপি সদস্য

চলমান লকডাউনে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সংবাদপত্র বিক্রেতা ও পথচারীসহ কয়েকজনকে কান ধরিয়ে উঠবস করালেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

জনতার সামনে উঠবস করিয়ে আবার সেই ছবি ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়ে কৃতিত্বের দাবি করেছেন শফিকুল।

এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

পার্বতীপুর উপজেলার ১০ হরিরামপুর ইউনিয়ন শাহপাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শফিকুল প্রথম দিনে লকডাউন বিরোধী প্রচার চালানোর সময় দাপট ও প্রভাব বিস্তার করেন সংবাদপত্র বিক্রেতা আব্দুল মোন্নাফ আালীসহ কয়েকজনের ওপর। তাদের বিরুদ্ধে মাস্ক না পরার অভিযোগ আনেন তিনি। এরপর কয়েকজনকে কান ধরিয়ে উঠবস করান তিনি।

স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার এইচআর হাবিব বলেন, পত্রিকা বিক্রেতার কান ধরানো ঘটনায় আমার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। শফিকুলের এমন দায়িত্বহীন আচরণ মূর্খতার পরিচয় ছাড়া কিছু নয়।

অনেকেই বলছেন, নাগরিকদের অসম্মান করার অধিকার এ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের নেই। তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

সংবাদপত্র বিক্রেতা আব্দুল মোন্নাফ আলী বলেন, আমি মধ্যপাড়া খনিজ শিল্পাঞ্চল ও আনন্দবাজার এলাকায় এক যুগের বেশি সময় হতে নিয়মিত পত্রিকা বিক্রি করছি। সেই সুবাদে এই অঞ্চলের খনির অফিসার, গণ্যমান্য ব্যক্তি, ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য, রাজনীতিবিদ সবার পরিচিত। অথচ শফিকুল পকেটে মাস্ক থাকার পরও জনসম্মুখে আমাকে কান ধরতে বাধ্য করেছেন।

এ বিষয়ে শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, শুধু পত্রিকা বিক্রেতাই নয় বাকি সবাই নিজেই নিজের কান ধরেছেন। আমি শূধু মাস্ক মুখে দেওয়ার কথা বলেছি।

এই ইউপি সদস্য আরও দাবি করেন, তারা নিজেরাই কান ধরে ভুল হয়েছে স্বীকারও করেন।

এ দিকে স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল সানী, আজিজুল হক ও মোস্তাকিম সরকার এ ঘটনায় নিন্দা ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেছেন।