বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, "ওয়ান-ইলেভেনের সরকার ১৩ শর্তে আমাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী করতে চেয়েছিল। কিন্তু শর্তগুলো দেশের স্বার্থবিরোধী হওয়ায় তা মেনে নেননি।" গতকাল শুক্রবার বিএনপি আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, "মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়া পাকিস্তানের হাতে বন্দী ছিলেন, এখন তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে বন্দী। ওয়ান-ইলেভেনে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে চলে যাওয়ার জন্য বারবার প্রলুব্ধ করা হয়েছে। কিন্তু দেশের মাটি ও মানুষকে ছেড়ে তিনি যাননি।"
ওয়ান ইলেভেনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, "২০০৮ সালে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ওয়ান ইলেভেনে ১৩ টি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল- তা মেনে নিলে ম্যাডামকে মুক্ত ও বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানো হবে। প্রতিটি প্রস্তাবই ছিল দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে, যার কারণে তা মেনে নেননি। তাই দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।"
তারেক রহমান বিদেশে যেতে চাননি- স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, "জিয়াউর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকে থামাতে ১৯৭১ সালে ২ জুলাই খালেদা জিয়াকে দুই শিশু সন্তানসহ (তারেক ও কোকো) আটক করা হয়েছিল। তেমনি ওয়ান ইলেভেন সরকার খালেদা জিয়াকে থামাতে দুই সন্তানসহ (তারেক ও কোকো) তাকে আটক করেছিল। এর আগে দর-কষাকষি হয়েছিল। তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া অথবা ম্যাডামকে বিদেশে চলে যেতে হবে। নেত্রীর মুখে শুনেছি, ওই দিন আমাদের নেতা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছিলেন, আমি কোনো অন্যায় করিনি, কেন আমাকে বিদেশ যেতে হবে? আমার যদি কোনো অন্যায় থাকে বিচার করুক। বিচার তো করতে পারল না, তারা নির্যাতন করল।"
তিনি বলেন, "ওয়ান-ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়া মাতৃত্ব নয়, দেশ ও দেশের মানুষকে বেছে নিয়েছিলেন।"
গয়েশ্বর বলেন, "ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। গণতন্ত্র ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র আমাদের সামনে আরও আছে। আমরা এখনো নেত্রীকে মুক্ত করতে পারলাম না।"
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে ইঙ্গিত করে বিএনপির এই নেতা বলেন, কিছু সুধীজন আমাদের মাঝে মাঝে কিছু উপদেশ দিয়ে থাকেন। আমাদের নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলতে থাকেন। তাদেরকে সবিনয়ে বলব, এ কথাগুলো প্রকারান্তরে ফ্যাসিবাদকে উৎসাহিত করে। যারা ক্ষমতায় আছে তাদের ক্ষমতায় থাকার পথকে প্রশস্ত করে। আমাদের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না। সমস্যা দেশে গণতন্ত্র নেই, আইনের শাসন নেই। আমাদের নেতৃত্ব পদে পদে পরীক্ষিত এবং পরীক্ষায় তারা উত্তীর্ণ।"
নেতা কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "গণতন্ত্রের নেতৃত্ব যারা দেন তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হবে, অপপ্রচার চালানো হবে, আমরা যেন কোনোভাবে বিভ্রান্ত না হই।"