২০১৯ সালে বিচ্ছেদ হয় এক দম্পতির। সেসময় থেকে তাদের ১০ বছরের কন্যা শিশুটি ছিল মায়ের কাছে। কিন্তু পারিবারিক আদালত এক আদেশে শিশুটিকে দেয় বাবার জিম্মায়, মায়ের হেফাজতে থাকবে শুধু শুক্র ও শনিবার। এমন পরিস্থিতিতে শিশু সন্তানকে হেফাজতে নিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মা।
রবিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আদেশে পারিবারিক আদালতের ওই আদেশটি এক মাসের জন্য স্থগিত করে শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় রাখার আদেশ দেয়। তবে, বাবা চাইলে সন্তানকে দেখতে পারবেন বলে আদেশে বলা হয়।
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ভালোবেসে বিয়ে করেন ২০০৭ সালে। ২০১১ সালের ১১ জুলাই তাদের কোলজুড়ে আসে একটি কন্যা সন্তান। সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হলে ২০১৮ সাল থেকে তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। ২০১৯ সালের মে মাসে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। তখন শিশুটি মায়ের কাছেই ছিল। শিশুটির মা একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। শিশুটির বাবা একসময় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। বর্তমানে ব্যবসায়ী। মেয়েকে নিজের হেফাজতে নিতে গত ৬ জুন ঢাকার পারিবারিক আদালতে আবেদন করেন বাবা।
পারিবারিক আদালত গত ৩০ জুন এক আদেশে জানায়, আগামী ২১ দিন কন্যা শিশুটি থাকবে বাবার হেফাজতে। তবে, মায়ের হেফাজতে থাকবে শুক্রবার ও শনিবার। আর সপ্তাহের বাকি দিনগুলো বাবা সন্তানের অনলাইনে স্কুলের ক্লাসের ব্যবস্থা করবেন। একই সঙ্গে বাদী ও বিবাদী এবং তাদের বাবা-মা, বাসার পরিবেশ সম্পর্কে ২১ দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দিতে হাজারীবাগ থানার ওসিকে নির্দেশ দেয় আদালত।
পরে পারিবারিক আদালতের এ আদেশটি স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন শিশুটির মা। শুনানি শেষে রবিবার হাইকোর্ট পারিবারিক আদালতের ওই আদেশ ৩০ দিনের জন্য বা নিয়মিত আদালত খোলা পর্যন্ত স্থগিত করে এ আদেশ দেয়।
ভার্চ্যুয়াল আদালতে শিশুটির মায়ের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফখরুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।
ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে শিশুটি এখন মায়ের কাছেই থাকবে। তবে, বাবাও তাকে দেখতে পারবেন বলে বলা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ আদেশ পেলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।’