নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদক কারবারিদের দু’পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে সাত পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৭২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় আবারো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে ঘটে এ সংঘর্ষের ঘটনা।
এদিকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক পরেশ বাগচি বাদী হয়ে মাদক কারবারিদের দু’পক্ষের প্রধান জয়নাল আবেদীন ও শাহিন ওরফে সিটি শাহিনসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তাররা হলো চনপাড়া ৮ নম্বর ব্লক এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মামুন ও ৪ নম্বর ব্লক এলাকার মিন্টুর ছেলে নাঈম।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে পাইকারি ও খুচরা ইয়াবা ট্যাবলেট, মদ, ফেনসিডিল, বিয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসা চলে আসছিল। আর এ মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জয়নাল আবেদীন পক্ষের সঙ্গে শাহিন ওরফে সিটি শাহিন পক্ষের বিরোধ চলছে। শাহিন ওরফে সিটি শাহিন পক্ষের রবিন নামের মাদক ব্যবসায়ী চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের ৬ নম্বর ব্লক এলাকায় মাদকের স্পট দিয়ে বসে। ৬ নম্বর ব্লক এলাকাটি জয়নাল আবেদীনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাই জয়নাল আবেদীন তার এলাকায় শাহিন ওরফে সিটি শাহিনকে মাদক বিক্রি করতে দেবেন না বলে বাধা দেন। রবিবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে জয়নাল আবেদীনসহ তার লোকজনের সঙ্গে শাহিন ওরফে সিটি শাহিনসহ তার লোকজনের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন রামদা, চাপাতি, তলোয়ার, বল্লম, ছামুরাই, চাইনিজ কুড়াল, ছুরিসহ বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুরো চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের সাধারণ মানুষ ভয়ে ও আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে শুরু করে।
খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে প্রায় রাত ১০টা পর্যন্ত।
এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় রূপগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হুমায়ুন কবির মোল্লা, উপপরিদর্শক পরেশ বাগচি, সহকারী উপপরিদর্শক বাইজিত, কনস্টেবল সিরাজুল ইসলাম, নুরুল আমিন, আবু বক্করসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ ছাড়া মাদক কারবারিদের দু’পক্ষের মোক্তার হোসেন, জিহাদ, রায়হান, সজিব, রিপন, রাব্বি, সাকিব, বাবুসহ অন্তত ২৮ জন আহত হন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৭২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মামুন ও নাঈম নামের ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, ঘটনাস্থল অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশের ওপর হামলাকারীসহ অন্যায়কারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। উভয় পক্ষের অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।