ওয়েম্বলিতেই হয়েছিল ইংল্যান্ড-ডেনমার্কের সবশেষ ম্যাচ। গত বছরের ১৪ অক্টোবরের সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে জিতিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন। আজ ওয়েম্বলিতে ইউরোর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এরিকসেন না থেকেও থাকবেন। তার অনুপ্রেরণায় আরেকটা জয় ডেনমার্ককে ২৯ বছর পর আবারও ইউরোর ফাইনালে তুলে দেবে।
কিন্তু প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড তো সেমিফাইনালের গেরো ছেঁড়ার পণ করে বসে আছে। ১৯৯৬ ইউরোতে এই ওয়েম্বলিতেই জার্মানির কাছে সেমিফাইনাল হারের কষ্ট বুকে বয়ে বেড়াচ্ছেন কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হার, বা ২০১৮-১৯ নেশন্স লিগের শেষ চারে নেদারল্যান্ডসের কাছে হারের স্মৃতি তো কেইন-স্টার্লিংয়ের কাছে তরতাজা। এবার আর সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে চান না তারা। নকআউট পর্ব থেকে দাপুটে ফুটবল খেলতে থাকা ইংল্যান্ডকে শিরোপা জয়ের জন্য অন্যতম ফেভারিট ভাবছেন ফুটবলপন্ডিতরা। ডেনমার্ক কি পারবে তাদের আটকাতে?
১৯৯২ সালে রূপকথা লিখেছিল ডেনমার্ক। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল। সেই ’৯২-র ডেনমার্ক দলের গোলকিপার ছিলেন পিটার শ্মাইকেল। তার ছেলে ক্যাসপার শ্মাইকেল এবারের ডেনিশ দলের গোলকিপার। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বলেছিলেন বাবার ইউরো জয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে চান শিরোপা জিতে। সেই ইচ্ছে পূরণে আর দুটি জয় দরকার ডেনিশদের। ফিনল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়া দলটিকে মনেই হয়নি এতদূর আসতে পারবে। ওই ম্যাচে ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন হার্ট অ্যাটাকে মাঠে পড়ে যাওয়ার পর থেকে তাকে অনুপ্রেরণা করে একের পর এক ম্যাচ পেরিয়ে এসেছে ডেনমার্ক। সুস্থ থাকলে ৯ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার ওয়েম্বলিতে খেলতেন এরিকসেন সন্দেহ নেই। তবে তিনি না থেকেও আছেন সতীর্থদের মাঝে। উইঙ্গার মাইকেল ডামসগার্ড একাদশে খেলছেন এরিকসেনের জায়গাতেই। ৩ জুলাই ডামসগার্ডের ২১তম জন্মদিনেই চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে সেমিতে ওঠে ডেনমার্ক। ডামসগার্ড বলেন, ‘এর চেয়ে ভালো জন্মদিনের উপহার আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। ওয়েম্বলিতে যাওয়াটা খুবই আনন্দদায়ক। এরিকসেনই আমার অনুপ্রেরণা। তিনি এমন একজন খেলোয়াড় যাকে আমি ছোট থেকে অনুসরণ করে এসেছি।’
ডেনিশ ডিফেন্ডার আন্দ্রেয়াস ক্রিসটেনসেন আস্থা রাখছেন নিজেদের দলের ওপর। বলেন, ‘যে কারও বিপক্ষে খেলার সামর্থ্য আছে আমাদের। দল হিসেবে ইংল্যান্ড আমাদের চেয়ে খুব বেশি ভালো বলব না। কেইনকে নিয়ে আমরা সতর্ক। কিন্তু কেবল একজন খেলোয়াড়কে আটকে রাখার ছক কষতে পারি না। কীভাবে তারা আক্রমণ করে, তার সবটাই আমরা জানি।’
পরিসংখ্যানে ডেনমার্কের সঙ্গে এগিয়ে ইংল্যান্ড। ২১ ম্যাচের ১২টিতে জিতেছে ইংল্যান্ড। ৫টি ড্র। ৪ জয় ডেনিশদের। চার জয়ের সবশেষটি গত বছর নেশন্স লিগের ম্যাচে ওয়েম্বলিতে। তার আগের ম্যাচটিও (নেশন্স লিগেই) কোপেনহেগেনে গোলশূন্য ড্র রেখেছিল ডেনমার্ক।
গ্রুপপর্বে ক্রোয়েশিয়া, শেষ ১৬তে জার্মানি আর কোয়ার্টারে ইউক্রেনকে হারিয়ে আসা ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট সেমিফাইনাল সম্পর্কে বলেছেন, ‘আগের চেয়ে আরও ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা সেমিফাইনালের জন্য। এবার অনেক বিষয় নিয়ে আমরা সতর্ক।’ সমর্থকদের বিষয়ে সাউথগেট বলেন, ‘আমাদের সমর্থকদের জন্য খুশি বয়ে আনার সুযোগ এবং না ভোলার মতো রাত তৈরি করার চেয়ে বিশেষ কিছু হতে পারে না। ইংল্যান্ডের ফুটবল ম্যাচ এমন এক ইভেন্ট যা পরিবারকে একত্রে করে।’
এবার ইউরোর ফাইনালও হবে ওয়েম্বলিতে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর ওয়েম্বলিতে আরেকটি ফাইনাল খেলার সুযোগ ইংল্যান্ডের সামনে। ইংলিশ অধিনায়ক কেইন বলেন, ‘আমি এবং কিছু বয়সী খেলোয়াড়ের জন্য ওয়েম্বলিতে বড় টুর্নামেন্ট খেলার এটিই হয়তো শেষ সুযোগ। আশা করছি আমরা জিতব।’ সেমি জয়ের আগে ফাইনাল নিয়ে ভাবতে চান না অধিনায়ক কেইন। বলেছেন, ‘আমি এখন বেশি দূরে ভাবতে চাই না। তবে আমি একবারও বিষয়টি নিয়ে ভাবিনি (ওয়েম্বলিতে ফাইনাল খেলা) এটি বললে মিথ্যে হবে। এমনটি হলে স্বপ্ন সত্যি হবে। কিন্তু রাশিয়ার (২০১৮ বিশ্বকাপ) ঘটনাও মনে আছে। সেটি আমাদের জন্য দারুণ এক টুর্নামেন্ট ছিল, যা সেমিতেই শেষ হয়ে যায়।’
হ্যারি ম্যাগুয়েরও স্মরণ করেছেন ২০১৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের কথা। সেমির সেই হারই থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ইউরোর সেমিতে ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা খুঁজছেন ইংলিশ ডিফেন্ডার। ‘ওই হারের মধ্যেই অনুপ্রেরণা আছে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হার আমাদের ভীষণ কষ্ট দিয়েছিল। আমি মনে করি, আগে যে পর্যায়ে ছিলাম, তার চেয়ে আমরা এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছি। ওই পরাজয় থেকে আমরা শিখেছি।’