ময়মনসিংহ সদরের চরাঞ্চলবাসীর চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শম্ভুগঞ্জ-অম্বিকাগঞ্জ সড়কটি। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব খানাখন্দ মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে সাড়ে ১৫ কিলোমিটার এই সড়কের বেহাল দশা চরাঞ্চলবাসীর দুর্ভোগ আরও অসহনীয় করে তুলেছে।
সড়কের পাশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ভেঙে অনেক জায়গায় সরু হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। সড়কে প্রায়ই যানবাহন উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা। সেই সঙ্গে বোররচর, পরানগঞ্জ, চরসিরতাসহ চরাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়নের উৎপাদিত বিপুল সবজি পরিবহনেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। পরিবহন খরচ বাড়ায় কৃষকদের উৎপাদিত সবজি বাজারজাতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। অথচ গত দুই বছরেও সড়ক মেরামতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালে সড়কটি নির্মাণের পর একাধিকবার সংস্কার করা হলেও গত প্রায় দু বছর ধরে কোনো মেরামত কাজ হয়নি। ফলে সড়কের অনেক স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।
চরহরিপুর এলাকার আব্দুর রহমান জানান, সড়কটির মেরামত না হওয়ায় দিন দিন মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। সড়ক খারাপের অজুহাতে যানবাহনের ভাড়াও বেড়েছে। সবেচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রসূতিসহ গুরুতর অসুস্থ রোগীরা।
পরানগঞ্জের বাঘাডোবা গ্রামের আবুল হাসেম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সড়কটি চরাঞ্চলবাসীকে উপহার দিয়েছিলেন। চরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের সহজে শহরে যাওয়ার একমাত্র সড়কটির দ্রুত সংস্কার চান তিনি।
এলজিইডির ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ জানান, ১৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার এই সড়কটি সংস্কারে ১৬ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করে এলজিইডির সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রাক্কলন পাস হলে আগামী ২০২২ সালে সড়কটি সংস্কার হতে পারে।