লকডাউনে ক্ষতির শিকার চৌগাছার দুগ্ধ খামারিরা

মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের ঘোষিত ‘কঠোর লকডাউনের’ কারণে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন যশোরের চৌগাছার দুগ্ধ খামারিরা। টানা ‘লকডাউনের’ কারণে সবকিছুই বন্ধ থাকায় দুধ বিক্রি করতে পারছেন না তারা। ফলে অনেক খামারি দুধ পানিতে ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে জানা গেছে, চৌগাছায় ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৩০টি দুগ্ধ খামার আছে। এসব খামার থেকে যে দুধ সংগ্রহ হয় তা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের বলিদাপাড়া গ্রামের খামারি প্রণব কুমার রায় জানান, খামারে ২২টির মতো গাভী আছে। এর মধ্যে ১৫টি গাভী নিয়মিত দুধ দেয়। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার দুধ হয়। ‘লকডাউনের’ আগে প্রতি লিটার দুধ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হতো। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন গ্রামের ঘোষেরা দুধ নিত, এছাড়া ব্র্যাক থেকেও দুধ কেনা হতো। কিন্তু সবাই এখন দুধ কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ তাই ঘোষেরা দুধ কিনছে না। বাছুর আর কত দুধ খেতে পারে। বাধ্য হয়ে দুধ সংগ্রহ করে পুকুরের পানিতে ফেলতে হচ্ছে। খামারের ২২টি গাভী আর ১১টি বাছুরের প্রতিদিনের খাদ্য সংগ্রহে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। জানালেন, গত বছর ‘লকডাউন’ চলাকালেও এত ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়নি, এ বছর যতটা ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

একই কথা জানালেন উপজেলার ফতেপুর গ্রামের দুগ্ধ খামারি ইসমাইল হোসেন, স্বরূপপুর গ্রামের মিলন হোসেন। যত দিন যাচ্ছে, ততই অসহায় হয়ে পড়ছেন এসব খামারি।

দুধ সংগ্রহকারী উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের মোহন ও স্বপন কুমার জানান, খামার থেকে দুধ সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাড়ি ও হোটেলে বিক্রি করে সংসার চলত। কিন্তু করোনা আর ‘লকডাউনে’ বাড়ি থেকেই বের হতে পারছেন না, বেশ কষ্টে পার হচ্ছে দিনগুলো।

চৌগাছা বাজারের ‘আদি ঘোষ ডেইরির’ মালিক হরেন ঘোষ জানান, ‘লকডাউনে’ হোটেল বন্ধ রাখতে হচ্ছে, তাই দুধ কেনাও আপাতত বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রভাষ চন্দ্র গোস্বামী বলেন, লকডাউনের কারণে উপজেলার দুগ্ধ খামারিরা যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তা কাটিয়ে ওঠা বেশ কষ্টসাধ্য হবে। আমি ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খামারিরা যাতে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে তার জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগ উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি জানান।