প্রত্যাশা পূরণে চূড়ান্ত সাফল্য চাই মানচিনির

ইতালি এই ইউরোর জনগণের দল হয়ে উঠেছে। প্রতি আসরেই যেমন কোনো দলের খেলা পাঁড় প্রতিপক্ষকেও হাততালি দিতে বাধ্য করে, এবারের ইতালি সেই ভালোবাসা কেড়ে নিচ্ছে যেন। ফুটবল সমর্থকদের ভালোবাসা আর ইতালিয়ানদের হৃদয় নিংড়ানো সমর্থন দলটিকে প্রতি ম্যাচেই বাড়তি শক্তি জোগাচ্ছে। সেই সাফল্য-ভেলায় চড়ে ২০১২ সালের পর প্রথম কোনো বড় আসরের ফাইনালে উঠল ইতালি। ১৯৬৮ সালের পর থেকে অধরা ইউরো শিরোপা এবার জিততে চায় তারা। কিন্তু ইতালিকে নিয়ে সমর্থকদের যে উচ্ছ্বাস তা ভালো লাগছে না রবার্তো মানচিনির। দলটিকে আমূল বদলে ফেলা কোচ বারবার সতর্ক করছেন তার ‘দল এখনো কিছু জিতেনি’ বলে।

১৯৬৮-তে মাত্র চার দলের ইউরোয় ঘরের মাঠে শিরোপা জিতেছিল ইতালি। এরপর শিরোপা জয়ের সবচেয়ে কাছে গিয়েছিল ২০০০ ও ২০১২ সালে। ২০০০-এ ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরে হতাশ হয় আজ্জুরিরা। আর ২০১২’র ফাইনালে স্পেনের কাছে ৪-০ গোলে হেরে যায়। বিশ্বকাপে চারবারের চ্যাম্পিয়নদের জন্য মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসরে এমন শূন্যতা মানাচ্ছিল না যেন। পাশাপাশি ২০১২ থেকে ইতালির ফুটবল সম্ভার পড়তির দিকে। অবস্থা এমন যে ২০১৮ বিশ্বকাপের টিকিটই কাটতে পারেনি তারা। সেই দলটিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তোলেন মানচিনি। দুই বছরে টানা ৩৩ ম্যাচ জয়ের জাতীয় রেকর্ড গড়ে তার দল এখন ২০০৬ বিশ্বকাপের পর প্রথম শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে। তবে জয়ের আগে তা মানতে রাজি নন, ‘এতদূর এত পরিশ্রম করে উঠে আসায় পুরো দলকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে যে, আমরা এখনো কিছু জিতিনি। তাই কাজ শেষ হয়ে যায়নি। আমি জানতাম স্পেনের সঙ্গে ম্যাচটি সবচেয়ে কঠিন হতে যাচ্ছে। তাই সহজে জয় আসেনি। এখন রবিবারের ফাইনালের জন্য আমাদের শক্তি সঞ্চার করতে হবে।’ 

রবিবার ওয়েম্বলির ফাইনাল হবে ইতালির জন্য দশম। দলটিকে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের উৎসাহ দিতে অবশ্য ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী মাঠটিতে খুব বেশি ইতালিয়ান সমর্থক থাকছেন না। ইতালিয়ানদের জন্য ইংল্যান্ড সরকারের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যবাধকতার কারণেই মাঠে মাত্র ১১ হাজার সমর্থক উপস্থিত থাকতে পারবেন। এই ১১ হাজার ইতালিয়ানের বেশিরভাগই ইংল্যান্ডে স্থায়ী। খুব বেশি ইতালিয়ান ফাইনালে উপস্থিত থাকবেন না বলে মানচিনির ভালো লাগছে না। তবুও তার কাছে দেশের সমর্থন বড়, যারা ইতালির সেমিফাইনাল জয়কে উদযাপন করেছেন একদম শিরোপা জয়ের মতো করে। সোমবার রাতেই ইতালির রাস্তায় নেমে সমর্থকরা দীর্ঘদিন পর ফাইনালে ওঠার আনন্দে মেতেছেন। মানচিনি সেই সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা যোগ্য দল হিসেবে ফাইনালে উঠেছি। কিন্তু আসর শুরুর আগে প্রায় কেউই আমাদের এই অবস্থায় দেখেনি। আমরা তাদের ভুল প্রমাণ করেছি। তাই বিশ্বের সব জায়গায় থাকা ইতালিয়ানদের জন্য আমরা দারুণ খুশি।’