বিধিনিষেধের মধ্যেও ময়মনসিংহে সড়কে যানবাহনের ভিড়

করোনা বিস্তার রোধে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলেও দিন দিন পাল্টে গেছে নগরীর চিত্র।

নগরীর বিভিন্ন সড়কে কাজে-অকাজে বের হওয়া মানুষের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। গত সাত দিনে জেলায় বিধিনিষেধ অমান্য করায় ২৮৯৫টি মামলায় ২১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এদিকে, নগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও সড়কে বিপুল পরিমাণ রিকশা, আটোরিকশাসহ ব্যক্তিগত যানবাহন চলতে দেখা গেছে। নগরীর কোথাও কোথাও সীমিত যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা গেছে।

নগরীতে দোকান মার্কেট শপিং মলসহ সকল বিপনী বিতান বন্ধ থাকলেও অধিকাংশ এলাকার অলিগলির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল খোলা। কোথাও কোথাও চায়ের আড্ডা দিতেও দেখা গেছে।

তবে, কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিন থেকেই জেলা ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ছিল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে স্কাউট, বিএনসিসি ও বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করছে।

জেলা প্রশাসক এনামুল হক জানান, কঠোর বিধিনিষেধ সফল করতে প্রধান প্রধান সড়ক ছাড়াও অলিগলি এবং বাজারগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের সচেতনতা না থাকলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ অসম্ভব। জনগণের জানমালের হেফাজতের জন্য সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে। তাই করোনা মোকাবিলায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি বিধিনিষেধ মেনে মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং অপরকে থাকার জন্য উৎসাহিত করতে হবে।

অপরদিকে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা হক জানান, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বিধিনিষেধের ৭ম দিন বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিধিনিষেধ অমান্য করায় জেলায় ২৮৯৫টি মামলায় ২১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

তিনি জানান, শুধু জরিমানা আদায় নয়, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে মানুষকে সচেতন করতে জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৩ জন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১৩ জন সহকারী কমিশার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা প্রশাসন কর্তৃক নিয়োজিত ২৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ৫২ জন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে।