জাহাঙ্গীরনগরে নির্মাণাধীন হল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নির্মাণাধীন ২২ নম্বর হল থেকে অলিউল্লাহ (২৩) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকালে নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা ভবনের সামনে ওই যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানায়।

নিহত অলিউল্লাহ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বরবাজার এলাকার বাসিন্দা তাইজুদ্দিন তাজুর ছেলে। পরিবারের সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। অলিউল্লাহ একটি হোটেলে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিহত অলিউল্লাহ নির্মাণকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ না।

২২ নম্বর হলের নির্মাণকাজে নিয়োজিত নূরানী কনস্ট্রাকশন কোম্পানির ম্যানেজার খোরশেদ আলম খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকালে উঠে আমরা নির্মাণাধীন হলের সামনে এক মৃত ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখি। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ৩টা ৮ মিনিটে অলিউল্লাহসহ তিন যুবক সীমানা প্রাচীর পার হয়ে নির্মাণাধীন হলের ভেতরে প্রবেশ করে। পরে সাড়ে ৩টার দিকের ফুটেজে অলিউল্লাহকে নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। চুরি করার উদ্দেশ্যে তারা নির্মাণাধীন হলে এসেছিল বলে ধারণা করছি।

আশুলিয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী নাসের দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেলা ১১টার দিকে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহত অলিউল্লাহ নির্মাণ সংশ্লিষ্ট কেউ না। ভবন থেকে নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নাসির উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চুরি করার উদ্দেশ্যে তিনজন নির্মাণাধীন হলে প্রবেশ করেছিল। তাদের একজনের মরদেহ সকালে পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টির তদন্ত করছে।’

এর আগে গত ২৭ মে একই ভবনের ছয়তলা থেকে নিচে পড়ে শাহের আলী নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

এদিকে একই হলে আরেক মৃত্যুর ঘটনাকে প্রকল্প পরিচালক, কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও তদারকি কমিটির দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফল বলে দাবি করেছে ছাত্র ইউনিয়নের জাবি সংসদ।

বৃহস্পতিবার সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমতিয়াজ অর্ণবের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তুষার ধর ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের সময়োপযোগী পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির পুনরাবৃত্তি এড়ানো যেত। কথিত চুরির ঘটনার পেছনে করোনাকালীন মর্মান্তিক দারিদ্র্যের নিষ্পেষণ নিশ্চিতভাবেই কাজ করেছে।’