কারখানার আগুন নেভাতে দেরি, আনসার ক্যাম্প থেকে শটগান লুট ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের

হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিন শ্রমিক নিহত এবং আগুন নেভাতে দেরির ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হাসেম ফুড লিমিটেডের আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে সংরক্ষণাগার থেকে তিনটি শটগান লুট করে নিয়ে যায়।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আনসার ক্যাম্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

উপজেলা আনসারদের প্রশিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ নাছিমা বেগম দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হাসেম ফুডের আনসার ক্যাম্পে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় শ্রমিকরা ক্যাম্পের অস্ত্র সংরক্ষণাগারের তালা ভেঙে তিনটি শটগান লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় কাউসার, বিশ্বজিত, ফারুক, মোশরাকুলসহ প্রায় পাঁচ আনসার সদস্য আহত হন।

নাছিমা বেগম বলেন, অস্ত্র লুটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে র‌্যাব, ডিবি ও আঞ্চলিক পুলিশ ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ উপস্থিত হয়।

রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের পুলিশ টিয়ারশেল ও কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহ নূসরাত জাহান বলেন, ‘অস্ত্র লুটের বিষয়টি আনসাররা আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে। তারা লিখিত স্টেটমেন্ট দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের চেষ্টায় ১৬ ঘণ্টা পরও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত স্বপ্না আক্তার (৪৫), মীনা আক্তার (৪১) ও মোরসালিন (২৮) নামের তিন শ্রমিক নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ৩০ জনের বেশি। তবে ৭০-৮০ জন শ্রমিক এখনো ওই ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন বলে জানান অন্য শ্রমিক ও নিখোঁজের স্বজনরা।