সৌরভময় ফুটবল লড়াই। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের লড়াইকে এভাবেই বর্ণনা করে থাকে ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা। শতাব্দী প্রাচীন দ্বৈরথকে ‘আমেরিকার লড়াই’ বলে থাকেন অনেকে। দু’দলের প্রীতি ম্যাচও রোমাঞ্চ ছড়ায়। সেই রোমাঞ্চ থেকে কখনো কখনো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। ২০১৪ সাল থেকে হয়ে আসা দু’দেশের দ্বৈরথে ১০৭টি ম্যাচ হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচের কথা তুলে ধরা হচ্ছে, যা ইতিহাস হয়ে আছে।
ব্যাটল অব রোজারিও (১৯৭৮ বিশ্বকাপ)
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের গায়ের জোরের ম্যাচটি সেদিন স্নায়ুক্ষয়ী এবং উগ্র হয়ে ওঠে। দিনশেষে স্কোরলাইন ০-০। এতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পয়েন্ট হয় ৩। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফাইনালে (ওই টুর্নামেন্ট দুই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন সরাসরি ফাইনালে ওঠে) উঠতে শেষ ম্যাচে অন্তত ৪-০ গোলে পেরুকে হারাতে হতো স্বাগতিক আর্জেন্টিনাকে। পোল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের স্কোরলাইন (৩-১) জেনে রোজারিওতে খেলা শুরু করা আর্জেন্টিনা বিরতি পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা গুনে গুনে ৬ গোল করে এবং ফাইনালে ওঠে। অভিযোগ ওঠে পেরু খুব একটা রক্ষণের চেষ্টা করেনি। দলটির আর্জেন্টাইন গোলরক্ষকের ওপর ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। যদিও কিছুই প্রমাণ হয়নি। ইতালিকে হারিয়ে তৃতীয় হয় ব্রাজিল। টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচ হারেনি বলে ব্রাজিল কোচ ক্লদিও কুতিনহো তার দলকে ‘মোরাল চ্যাম্পিয়ন’ ঘোষণা দেন।
ম্যারাডোনার লাথি ও লাল কার্ড (১৯৮২ বিশ্বকাপ)
স্পেনের এই আসরে দ্বিতীয় রাউন্ডে ‘সি’ গ্রুপে পড়ে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও ইতালি। অর্থাৎ মৃত্যুকূপ। প্রথম ম্যাচেই আর্জেন্টিনাকে ২-১-এ হারিয়ে বিপদে ফেলে দেয় আজ্জুরিরা। সেমিফাইনালে যেতে হলে দ্বিতীয় ম্যাচে জিততেই হতো আর্জেন্টিনাকে। কিন্তু ব্রাজিলের ওই দলের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। ব্রাজিলের রানিংয়ের ওপর ওয়ান টাচের আক্রমণের গতির সঙ্গে হেরে যায় ডিয়েগো ম্যারাডোনার দল। তাই ৩-১ গোলে হার। সেই সঙ্গে রেফারিং নিয়ে বিরক্তি থাকায় রেগে থাকা ম্যারাডোনা ব্রাজিলের বাতিস্তাকে সরাসরি লাথি মেরে দেন। লাল কার্ডের সঙ্গে সঙ্গে তার দলের বিশ্বকাপও শেষ হয়। সেজার মেনোত্তির আর্জেন্টিনা দলে ম্যারাডোনা ছাড়াও ছিলেন প্যাসারেলা, আর্দিলেস, ক্যাম্পোসরা। টেলে সান্তানার দলে ছিলেন সক্রেটিস, ফ্যালকাও, জুনিয়র, জিকোরা।
পানি পড়া কান্ড (১৯৯০ বিশ্বকাপ)
বিশ্বকাপের নকআউট পর্যায়ে একবারই মুখোমুখি হয় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, ইতালি বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে। ম্যারাডোনার পাস থেকে করা ক্লদিও ক্যানিজিয়ার একমাত্র গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের মঞ্চে ওই শেষবার মুখোমুখি হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু সেবারই ঘটল বিশ্রী এক কান্ড। ম্যাচের একপর্যায়ে চোটগ্রস্ত এক ফুটবলারকে শুশ্রুষার সময় ব্রাজিলের ব্রাঙ্কোকে হোলি ওয়ার্টার (পানি পড়া) দেন আর্জেন্টিনার এক সাপোর্টি স্টাফ। পানিটা ওই সময় খেয়ে নিলেও পরে ব্রাঙ্কো অভিযোগ তোলেন, ওই পানি খেয়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়ছিলেন। অনেক বছর পর এক টেলিভিশন শোতে সেই ঘটনার কথা ম্যারাডোনা স্বীকারও করেন। যদিও কোচ কার্লোস বিলার্দো সব সময়ই তা অস্বীকার করে আসছিলেন।