নাগরিকত্ব আইন বাস্তবায়নে মমতার সাহায্য চায় বিজেপি

ভারতের ‘বিতর্কিত’ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল ও বিরোধী বিজেপির অবস্থান বরাবরই বিপরীত।

এই অবস্থায় শুক্রবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বললেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহায্য ছাড়া রাজ্যে সিএএ দ্রুত কার্যকর করা যাবে না। কেন্দ্রীয় আইন কার্যকর করা কি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ওপরে নির্ভর করে? জবাবে দিলীপ বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা চাই।’’

এক দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে সিএএ রাজ্যে তাড়াতাড়ি কার্যকর হয়ে যাবে। না হলে কেন্দ্রীয় সরকারের যখন সুবিধা হবে, লকডাউন কেটে যাবে, তখন কার্যকর করা যাবে।’’

তৃণমূল বলে আসছে, ভারতে বসবাসকারী ভোটদাতা, করদাতা, সম্পত্তির মালিক এবং তাদের পরিবারের সবাই নাগরিক। তাই রাজ্যে নতুন করে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রয়োগের কোনো প্রয়োজন দেখে না তারা। এই প্রশ্নে বিজেপির সঙ্গে তাদের বিরোধ নির্বাচনী প্রচারেও গুরুত্ব পায়।

দিলীপের মন্তব্যের জবাবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি ও বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, রাজ্যে নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করার প্রয়োজন নেই। আমরা তা করতে দেব না। আমাদের ভোটার কার্ড, আধার  কার্ড আছে। আমরা ভোট দিই। আমরা সকলেই নাগরিক। তাই নতুন করে নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রশ্ন নেই।’’

আরও বলেন, ‘‘দিলীপবাবুর রাজনৈতিক পরিপক্বতা নেই। তার উচিত সিএএ, এনপিআর, এনআরসি নিয়ে ভালো করে পড়াশোনা করা!’’

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সিএএ চালু করার ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে বড় বিরোধিতা হতে পারে, আঁচ করেই দিলীপের মতো বিজেপি নেতা কিছুটা ‘ধরি মাছ, না ছুঁই পানি’ অবস্থান থেকে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন। যাতে মতুয়া পাড়ায় গিয়ে নাগরিকত্ব বিধি জারির ইচ্ছা প্রকাশ করা যায়। আবার তা না করতে পারার একটি সাফাইও দিয়ে রাখা যায়।

গাইঘাটার ঠাকুরনগরে বিধানসভা ভোটের প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিধানসভা ভোট মিটলে এবং করোনার টিকাদান শেষ হলে সিএএ মেনে মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু কেন্দ্র এখনো সে ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ করেনি বলে এলাকায় অভিযোগ উঠেছে। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের কাঁধে দায় চাপাতে পারে বিজেপি।