মেহেরপুরের কোনো হাসপাতালে নেই জীবাণু প্রতিরোধক ব্যবস্থা

২৫০ শয্যার মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল কোনোটিতেই নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ করোনা প্রতিরোধক নিরাপত্তামূলক কোনো ব্যবস্থা। ফলে, হাসপাতালগুলোই করোনার আঁতুড়ঘর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ হাসপাতালে যাওয়া এবং আসা মানুষদের মাধ্যমে করোনা ছড়াচ্ছে পুরো জেলায় এমন অভিযোগ উঠেছে রোগীর স্বজনদের।

সরেজমিন ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রবেশমুখে মানুষকে জীবাণুমুক্ত করতে প্রাথমিক কোনো ব্যবস্থা নেই। রোগী দর্শনার্থীরা খেয়ালখুশি মতো হাসপাতাল চত্বরে এবং ভেতরে ঢুকছে আবার বের হচ্ছে। হাসপাতাল চত্বরের ভেতরে রয়েছে সাইকেল-মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড এবং খাবারের দোকান। সেখানেও মানুষের চলাফেরায় নেই কোনো সতর্ক ব্যবস্থা। কুকুর ও গরুর অবাধ বিচরণ আছে। হাসপাতালের করোনা নমুনা পরীক্ষা কেন্দ্রের কাছে গিয়ে মানুষের লম্বা লাইন দেখা গেল। দুর্গন্ধে অনেকেরই মুখ ঢাকা। পাশেই দেখা গেল নোংরা আবর্জনার স্তূপ। যেখানে করোনা পরীক্ষার কীট সামগ্রী, সিরিঞ্জ, স্যালাইন, ক্যানেল, সুচ, স্যালাইন টিউব, তুলো, ব্যান্ডেজ, অক্সিজেন পাইপ, ওষুধের বোতল, পলিথিন ব্যাগ, কাগজের প্যাকেট, পরিত্যক্ত পচা খাবারসহ চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী পড়ে আছে। অথচ এগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা কিংবা পুড়িয়ে ফেলার নিয়ম। কয়েকটি কুকুরকে দেখা গেল সেখান থেকে ব্যবহৃত পিপিই মুখ দিয়ে টেনে নিয়ে কামড়াচ্ছে। সেখান থেকে খাবারের সন্ধানে কুকুর মুরগি পা দিয়ে সেগুলো তছনছ করে আরও এলাকায় ছড়াচ্ছে। ভ্যানচালক খুশিমতো সেই আর্বজনা থেকে ভালো কিছু সংগ্রহ করতে নিজের মতো করে সেগুলো নিয়ে যাচ্ছে। আবার করোনা টেস্ট করতে আসা রোগী এবং তার স্বজনদের সেখান দিয়েই হেঁটে হাসপাতালের ভেতরে-বাইরে চলাফেরা করতে হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে ভিজে সেগুলোর বিরূপ প্রভাব আরও এলাকায় ছড়াচ্ছে। সবমিলিয়ে করোনা প্রাদুর্ভাবের এই সময় হাসপাতাল অভ্যন্তরে এমন অবস্থা খুবই ভয়ংকর বলে জানালেন হাসপাতালে যাওয়া দর্শনার্থী আশরাফুল ইসলাম সুমন। তিনি বলেন, এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে ভর্তি স্বজনকে দেখতে প্রতিদিন এই হাসপাতালে যেতে হয়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে বলেও কোনো কাজ হয়নি। ওখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে সর্বত্র। এ রকম অনিরাপদ চিত্র দেখা গেল গাংনী এবং মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের ভেতরে-বাইরে।

এ ব্যাপারে ২৫০ শয্যার মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) রফিকুল ইসলাম জানান, এখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট রয়েছে। ৩০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্থানে ৮ জন আছে। বাইরে থেকে লোক এনে বিশাল হাসপাতাল এলাকা পরিষ্কার করা লাগে। করোনার কারণে বাইরে থেকে লোক আনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সীমিত জনবল দিয়ে হাসপাতালের ভেতরে এবং বাইরের এলাকা সব সময় স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্ন রাখা কোনোক্রমেই সম্ভব না। তারপরও ওই নোংরা আবর্জনাগুলো দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে।