বিশ্বে যে হারে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হচ্ছে তাতে ২০৮০ সাল নাগাদ বিশ্বের ৮০০ কোটির বেশি মানুষ ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। গবেষকরা বলছেন, বিশ্বের ৪৭০ কোটি মানুষ মশাবাহিত দুটি প্রাণঘাতী রোগের হুমকিতে রয়েছে। ১৯৭০ থেকে ’৯৯ সালের মধ্যকার ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুসংক্রান্ত বাস্তবতার চেয়ে আগামীতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করে আছে বলেও তারা মনে করেন।
লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের (এলএসএইচটিএম) করা গবেষণাটি সম্প্রতি ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, যেভাবে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হচ্ছে তাতে আগামী ৫০ বছরে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়বে। একই সঙ্গে এখন যেমন বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে এ দুটি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে, এ সময়সীমা আরও বাড়তে পারে। ফলে আগামীতে মানুষকে বছরের একটি বড় সময়ই ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়তে হবে।
এলএসএইচটিএমের সহকারী অধ্যাপক ফিলিপ জে কোলন গনজালেস বলেন, ‘এ গবেষণা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন কমানোর মধ্য দিয়ে আমরা ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর হাত থেকে কয়েক মিলিয়ন মানুষকে রক্ষা করতে পারি। নির্গমন কমতে থাকলে ওই দুই রোগে বাৎসরিক সময়সীমা কমে আসবে। আর এতে অনেকের ঝুঁকিও কমবে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে উঠতে দেওয়া যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পলিসিমেকার ও জনস্বাস্থ্যকর্মীদের এখন থেকেই উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। যেসব অঞ্চল আপাতত ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুমুক্ত রয়েছে, সেখানে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। কারণ এ দুই রোগ যদি মহামারীর আকার নেয় তাহলে এদের সঙ্গে লড়াইয়ের তেমন কোনো প্রস্তুতি ওই অঞ্চলগুলোর নেই।’ বছরে ম্যালেরিয়ায় বিশ্বে চার লাখের বেশি মানুষ মারা যায়, যাদের অধিকাংশই শিশু। ২০১৯ সালেই আফ্রিকাতে ২৩০ মিলিয়ন মানুষ এ দুটি রোগের যেকোনো একটিতে আক্রান্ত হয়েছে। ডেঙ্গুর এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। প্রতি বছর বিশ্বে ৪০০ মিলিয়ন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় ও মারা যায় ২০ হাজারের বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরিত্রিয়া, সুদান এবং কলম্বিয়াতে ব্যাপকমাত্রায় মানুষের শরীরে ম্যালেরিয়া ধরা পড়ছে।